দেশ

মোদী সরকারের আমলে ছুটির দিনেও অধিবেশন! এই প্রথম কোনও রবিবার পেশ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেট

সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম কোনও বাজেট রবিবার পেশ হতে চলেছে।

Truth Of Bengal: সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণ অনুমোদন করল ক্যাবিনেট কমিটি অন পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স (সিসিপিএ)। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংসদ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম কোনও বাজেট রবিবার পেশ হতে চলেছে।

বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে। এর পরদিন, ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ করা হবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা। সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলবে ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব বসবে ৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত।

বাজেট প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বাজেট পেশ করার রীতি চালু হয়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা হত। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির আমলে এই পরিবর্তন আনা হয়, যাতে নতুন অর্থবর্ষের শুরু থেকেই বাজেটের সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত কার্যকর করা যায়।

যদিও সপ্তাহান্তে বাজেট পেশ এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালে শনিবার বাজেট পেশ করেছিলেন নির্মলা সীতারামন। তার আগেও ২০১৫ ও ২০১৬ সালে শনিবার বাজেট পেশ করেছিলেন অরুণ জেটলি।

এবারের বাজেট নির্মলা সীতারামনের নবম ধারাবাহিক কেন্দ্রীয় বাজেট। একই সঙ্গে এটি স্বাধীনতার পর দেশের ৮৮তম বাজেট। টানা ন’টি বাজেট পেশ করে তিনি ইতিহাস গড়তে চলেছেন। এই ক্ষেত্রে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছবেন। দেশাই দু’দফায় মোট ১০টি বাজেট পেশ করেছিলেন। অন্যদিকে, পি চিদম্বরম ন’টি এবং প্রণব মুখোপাধ্যায় আটটি বাজেট পেশ করেছিলেন।

২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম পূর্ণকালীন মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন নির্মলা সীতারামন। ২০২৪ সালে তৃতীয়বার মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও তিনি অর্থমন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারের প্রথম অগ্রিম হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও এই বৃদ্ধির হার গত অর্থবর্ষের ৬.৫ শতাংশের তুলনায় বেশি। এই অগ্রিম হিসাবই আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেট তৈরির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

Related Articles