বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও অদম্য ভারত! প্রত্যাশা ছাপিয়ে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছুঁল ৭.৮ শতাংশ
মূলত উৎপাদন, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতির ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
Truth of Bengal: নতুন অর্থবর্ষের সূচনার আগেই ভারতের অর্থনীতির ঝুলি থেকে এল এক ইতিবাচক খবর। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তিন মাসে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতির এই গতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত উৎপাদন, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতির ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
গত শুক্রবার কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের একই সময়ে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৪ শতাংশ, যা এবার বেড়ে ৭.৮ শতাংশ হয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রকের সংশোধিত অনুমান অনুযায়ী, নতুন ভিত্তিবর্ষের হিসেবে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের সামগ্রিক আর্থিক বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৭.৬ শতাংশে। উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক অনুমানে এই হার ৭.৪ শতাংশ থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও কিছুটা ভালো।পাশাপাশি, গত বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও সংশোধন করা হয়েছে। আগে যা ৮.২ শতাংশ জানানো হয়েছিল, তা সংশোধনের পর দাঁড়িয়েছে ৮.৪ শতাংশে। অন্যদিকে, জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫.৫৮৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৩ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থবর্ষের এই সময়ে ঘাটতির এই মাত্রা যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ, যা সরকারের আয় ও ব্যয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ন্যূনতম জিডিপি বৃদ্ধির হার বা নমিনাল গ্রোথ ৮.৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যানে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থনীতির পরিভাষায় নমিনাল বৃদ্ধি ভালো হওয়ার অর্থ হলো কর আদায় বৃদ্ধি এবং উন্নততর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করবে। এই পরিসংখ্যানগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে।






