জবরদখল করা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই উপচে পড়ল জনরোষ! জয়প্রকাশ মজুমদারকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম বৃষ্টি
শুক্রবার পুলিশের গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে এল একের পর এক ডিম
Truth of Bengal: ২০১৯ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনের সময় করিমপুরের পিপুলখোলা বুথের সামনে তাঁকে লাথি মেরে রাস্তার পাশে কচুবনে ফেলে দেওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছিল দেশজুড়ে। তখন তিনি ছিলেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে, ক্ষমতার অলিন্দ বদলে পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির রঙ বদলালেও তাঁর ভাগ্য বদলাল না। ফ্ল্যাট জবরদখল ও মালকিনকে হুমকির অভিযোগে ধৃত সেই তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে এবার সল্টলেকে সশরীরে হাজির করতেই আছড়ে পড়ল জনরোষ। শুক্রবার পুলিশের গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে এল একের পর এক ডিম। চরম উত্তেজনা ও ‘ডিম-বৃষ্টির’ মাঝেই কোনওরকমে গা বাঁচিয়ে ধৃত নেতাকে নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকলেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের এফই ব্লকের ৩৩৭ নম্বর বাড়িটি ২০১৪ সালে নামমাত্র ভাড়ায় সপরিবারে থাকার জন্য নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। কিন্তু বাড়ির মালকিনের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁকে বারবার ফ্ল্যাট খালি করে দেওয়ার কথা বলা হলেও, শাসকদলের নেতা হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টে তাঁকে হুমকি দিতেন জয়প্রকাশ। এমনকি বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলেও জুটত চরম অপমান ও হুমকি।
গত বুধবার দুপুরে এই ফ্ল্যাটে তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বিবাদ চরম আকার নেয়। সল্টলেকের ওই আবাসন ও স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা একজোট হয়ে জয়প্রকাশ মজুমদারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁর গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। বেগতিক দেখে জয়প্রকাশ মৌখিকভাবে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও উত্তেজিত জনতা তা মানতে অস্বীকার করে। সল্টলেক জুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হলে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এসে প্রথমে তৃণমূল নেতাকে আটক করে এবং পরে বাড়ির মালিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সকালে ধৃত জয়প্রকাশ মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের ওই জবরদখল করা ফ্ল্যাটে তল্লাশি ও তদন্তের স্বার্থে পরিদর্শনে যায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশের গাড়ি থেকে জয়প্রকাশের পা মাটিতে পড়তেই সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকার বাসিন্দারা ধৃত তৃণমূল নেতাকে টার্গেট করে পরপর কাঁচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন। পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করেই জয়প্রকাশের শরীর ও মুখ লক্ষ্য করে উড়ে আসতে থাকে ডিম। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় পুলিশ কর্মীরাও কিছুটা হকচকিয়ে যান। শেষমেশ চারদিকের তুমুল ধিক্কার ও ডিম-বৃষ্টির হাত থেকে কোনওরকমে জয়প্রকাশকে আড়াল করে পুলিশ কর্মীরা দ্রুত তাঁকে ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যান।
জয়প্রকাশ মজুমদারের রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের বা বিরোধী কর্মীদের এই ধরণের চরম ক্ষোভের মুখে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালের উপনির্বাচনের দিন করিমপুরে তাঁকে যেভাবে লাথি মেরে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার জন্য তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছিল বিজেপি। কিন্তু সেই ঘটনার ঠিক দু’বছরের মাথায় নীতি ও দল বদলে তৃণমূলে যোগ দেন জয়প্রকাশ।






