কলকাতা

উচ্ছেদ-বিক্ষোভের পর বড় স্বস্তি! হাওড়া মঙ্গলাহাটের হকারদের বসার অনুমতি দিল পুলিশ, তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

এই দাবিতে তাঁরা জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, থানা-সহ একাধিক দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেন

Truth of Bengal: হাওড়ার মঙ্গলাহাটে হকার উচ্ছেদ ঘিরে টানা বিক্ষোভ ও চাপানউতরের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেলেন ব্যবসায়ীরা। হাওড়া ময়দান চত্বরে মঙ্গলাহাটের হকারদের সোম ও মঙ্গলবার ফুটপাথে বসার শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দিল হাওড়া সিটি পুলিশ। আগামী সপ্তাহ থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি মঙ্গলাহাট এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় প্রশাসন। হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। মালপত্র বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ী ও হকাররা। তাঁদের দাবি, বসার জায়গা না দিলে কয়েক হাজার পরিবার বিপাকে পড়বে। এই দাবিতে তাঁরা জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, থানা-সহ একাধিক দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়ার সঙ্গে হকার প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফুটপাথের চিহ্নিত অংশে হকাররা বসতে পারবেন। কোন ফুটপাথের কোন অংশে ব্যবসা করা যাবে, তা চিহ্নিত করে দেবে পুলিশ। তবে অনুমতির সঙ্গে একাধিক শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলাহাটের হকাররা রাত ১২টার পর ফুটপাথে বসতে পারবেন। ব্যবসা চালানো যাবে সকাল ৭টা পর্যন্ত। সকাল ৮টার মধ্যে ফুটপাথ সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দিতে হবে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই রাস্তার উপর বসে জামাকাপড় বা অন্য সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। ট্রাফিক চলাচল ব্যাহত হলে বা নিয়মভঙ্গ হলে ফের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, মঙ্গলাহাটের হকাররা রাস্তা ও ফুটপাথে বসতে পারবেন না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন হকাররা। অবশেষে আলোচনার মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে ফুটপাথে বসার অনুমতি মেলায় আপাতত স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে মলয় দত্ত বলেন, “প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। ট্রাফিক নিয়ম মেনে যদি ফুটপাথে বসার সুযোগ থাকে, তাহলে বহু হকারের পরিবার বাঁচবে।” প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে আপাতত মঙ্গলাহাটে উত্তেজনা কমলেও নিয়ম মানা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।