কলকাতা

ফেরার কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ, তোলাবাজির অভিযোগে বেলদায় গ্রেফতার গাড়ির চালক

টিনের দোকান ৬ লাখ, শাটার দিলেই আলাদা রেট! সুশান্ত ঘোষের তৈরি তোলাবাজির ‘রেটচার্ট’ দেখে চোখ কপালে পুলিশের

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন আরও তীব্র হয়েছে। এবার হকারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা আদায়ের মারাত্মক অভিযোগে আনন্দপুর থানার ‘ফেরার’ তালিকায় নাম উঠল কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পরেই ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জোড়া এফআইআর (Double FIR)-এর চাপ বাড়তেই এবার এলাকা থেকে সম্পূর্ণ বেপাত্তা হয়ে গিয়েছেন এই হেভিওয়েট নেতা। পুলিশ তাঁর খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরলেও, শুক্রবার ওড়িশার বেলদা সীমান্ত থেকে সুশান্তর ব্যক্তিগত গাড়ি ও তাঁর চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

টিন ও শাটার দোকানের ‘রেটচার্ট’! একেকটি দোকান ৬ লাখ

আনন্দপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে গত ১ জুন স্থানীয় হকার ও ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অত্যন্ত বিস্ফোরক। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইএম বাইপাস সংলগ্ন আনন্দপুর এলাকায় হকারদের পুনর্বাসনের নামে বাজারে নতুন টিন ও শাটারের দোকান তৈরি করা হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাঙ্গপাঙ্গরা ঠিক করে দিতেন কোন ব্যবসায়ী কত বড় দোকান পাবেন। শুধু তাই নয়, এর জন্য রীতিমতো একটি ‘রেটচার্ট’ বা মূল্য তালিকা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। সেই রেটচার্ট মেনেই হকারদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হত। এমনকি একেকটি সরকারি দোকান সুশান্ত ও তাঁর দলবল নগদ ৬ লাখ টাকায় খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ওড়িশা সীমান্তে নাকা চেকিংয়ে বড় ধামাকা

১ জুনের পর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের হওয়ায় তাঁর ওপর আইনি চাপ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এরপর থেকেই নিজের তিনটি মোবাইল ফোন ‘সুইচড অফ’ করে এলাকা ছাড়েন তিনি। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জাতীয় সড়কে নাকা তল্লাশি শুরু করে।

অবশেষে শুক্রবার সকালে ওড়িশা সীমানার বেলদা পয়েন্টে পুলিশের নাকা চেকিং চলাকালীন সুশান্ত ঘোষের বিলাসবহুল গাড়িটি আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওড়িশার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই গাড়ির ভেতরেই সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন সুশান্তর আত্মীয়রা। তবে সুশান্ত ঘোষ গাড়িতে ছিলেন না। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই গাড়ির চালককে গ্রেফতার করেছে, যার বিরুদ্ধেও হকারদের ভয় দেখিয়ে তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এবার এই ধৃত চালককে জেরা করে পলাতক কাউন্সিলরের গোপন ডেরার হদিস পেতে মরিয়া আনন্দপুর থানার তদন্তকারীরা।

Related Articles