গুলির লড়াইয়ে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে খতম আরও দুই মাওবাদী
Two more Maoists killed by security forces in gunfight
Truth Of Bengal: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলার ন্যাশনাল পার্ক এলাকার ঘন জঙ্গলে চলমান এক বিরাট মাওবাদী বিরোধী অভিযানে শনিবার আরও দুই মাওবাদী নিহত হয়েছে। গত তিন দিনের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত খতম হয়েছে মোট চারজন নকশাল মাওবাদী হয়েছে। যাদের মধ্যে দুইজন ছিল শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী নেতা।চলতি সপ্তাহের শুরুতে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রথম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনী সুধাকর ওরফে গৌতম নামের এক শীর্ষ নকশাল নেতাকে হত্যা করে। তিনি মাওবাদী দলের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য ছিলেন এবং তার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল উদ্ধার করা হয়।এরপর শুক্রবার নিহত হন ভাস্কর রাও ওরফে মৈলারাপু আদেল্লু, যিনি তেলেঙ্গানা ও ছত্তিশগড় রাজ্যে মিলিয়ে ৪৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারপ্রাপ্ত অপরাধী ছিলেন।
তিনি ছিলেন মাওবাদী তেলেঙ্গানা স্টেট কমিটির অধীনস্থ মঞ্চেরিয়াল-কমরামভীম বিভাগের সম্পাদক এবং স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য। তার দেহের পাশ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার পর্যন্ত গুলি বিনিময় চলতে থাকে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আরও কিছু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এই অভিযান এখনও চলছে, এবং নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গলে ঘন তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অবশিষ্ট বিদ্রোহীদের খুঁজে বের করা যায়। এই প্রসঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই অভিযানের লক্ষ্য হল নকশাল কার্যকলাপের উপর স্থায়ীভাবে আঘাত হানা এবং এলাকায় শান্তি নিশ্চিত করা। ’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরেইবস্তার অঞ্চলে জঙ্গি দমন অভিযানেপ্রায় ২৪ হাজার নিরাপত্তা কর্মীযুক্তহন।ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি), বস্তার ফাইটার্স, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), রাজ্য পুলিশের সমস্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং এর অভিজাত ইউনিট কোবরা সহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীরাএইঅভিযানেরসঙ্গেযুক্তরয়েছে। ২০২৪ সালে বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ২৮৭ জন মাওবাদীর। গ্রেফতার হয়েছে হাজারেরও বেশি, পাশাপাশি আত্মসমর্পণ করেন ৮৩৭ জন।চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের পৃথক এনকাউন্টারে ১৪৬ জন নকশালকে খতম করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজাপুর-সহ সাত জেলা নিয়ে গঠিত বস্তার ডিভিশনে ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গেএখন পর্যন্ত শত শত নকশাল আস্তানা ও বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য, ডেটোনেটর, খাদ্য মজুদ এবং নিত্যব্যবহারের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো চাপে পড়েছে মাওবাদীরা।






