“বিশ্বাসঘাতকতা করেছি”! ভোটের মুখে বাইরন বিশ্বাসের গলায় অনুতাপের সুর
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এটি কি নিছকই আবেগ নাকি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
Truth Of Bengal: সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ভোটের মুখে নিজের পুরনো রাজনৈতিক গুরু ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাইরন জানিয়েছেন যে, অধীর চৌধুরীই তাঁর ‘গুরুদেব’ এবং তাঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি যে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন, সেই সত্যও এবার অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন বাইরন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এটি কি নিছকই আবেগ নাকি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।
২০২৩ সালের উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে সাগরদিঘি থেকে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বাইরন বিশ্বাস। কিন্তু জয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে শাসকদল তৃণমূলে যোগ দেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে পুনরায় সাগরদিঘি থেকেই প্রার্থী করেছে। প্রথম দফার ভোটের আগে প্রচারের ময়দানে দাঁড়িয়ে বাইরন বলেন, “সারা দেশ জানে অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। আমি স্বার্থপরের মতো কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি অধীর চৌধুরীকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবেন এবং তাঁর হৃদয়ে ভগবানের পরেই অধীরের স্থান।
একই সঙ্গে সাগরদিঘির ভোটারদের উদ্দেশ্যে বাইরন এক অদ্ভুত আবেদন রেখেছেন। তিনি জানান, ভোটাররা যদি মনে করেন অন্য কোনো প্রার্থী তাঁর চেয়ে বেশি যোগ্য বা মানুষের পাশে থাকবেন, তবে তাঁরা যেন নির্দ্বিধায় সেই প্রার্থীকেই ভোট দেন। নিজেকে জয়ী করার জন্য কোনো জোরাজুরি না করে বরং পরিষেবাকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, উপনির্বাচনে তিনি শুধু জোটের ভোট নয়, বরং বিজেপি ও তৃণমূলের ভোটারদের একাংশের সমর্থনও পেয়েছিলেন।
এদিকে বাইরনের এই ‘অধীর-স্তুতি’ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরীও। বাইরনের স্বীকারোক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্বাসঘাতকতা স্বীকার করেছেন, এটা ভালো কথা। একজন বিশ্বাসঘাতক মানুষের যা করার কথা, আশা করি উনি তাই করবেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাগরদিঘির কংগ্রেস সমর্থকদের মন জয় করতেই হয়তো ভোটের ঠিক আগে এমন আবেগপ্রবণ কৌশল নিয়েছেন বাইরন বিশ্বাস। আগামী ২৩ এপ্রিলের ভোটযুদ্ধে এই মন্তব্যের প্রভাব কতটা পড়বে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


