আম্বানিকে টপকে এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির তালিকার শীর্ষে গৌতম আদানি
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
Truth Of Bengal: এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির তালিকায় বড় বদল। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনকুবেরের জায়গা দখল করলেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি। ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, শুক্রবার অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২.৬ বিলিয়ন ডলার। সেখানে মুকেশ আম্বানির সম্পদ ৯০.৮ বিলিয়ন ডলার। বহুদিন ধরেই এশিয়ার ধনীতমের শিরোপা নিয়ে দুই শিল্পপতির মধ্যে টানটান লড়াই চলছিল। শেয়ার বাজারের ওঠানামা ও সংস্থাগুলির মূল্যায়নের ভিত্তিতে বারবার বদলেছে তাঁদের অবস্থান। তবে সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে আম্বানিকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এলেন আদানি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বাজার সূচকগুলিকেও ছাড়িয়ে যায় এই উত্থান। এর ফলে মাত্র একদিনেই আদানি গোষ্ঠীর মোট সম্পদমূল্য প্রায় ৩.৫৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। শুক্রবারও একই ধারা বজায় থাকায় এশিয়ার ধনীতমের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেন আদানি। এশিয়ার ধনীতম তালিকায় প্রথম দুই স্থানে থাকা আদানি ও আম্বানি—দু’জনেই বিশ্বের ধনীতমদের তালিকায় প্রথম ২৫ জনের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, আদানি গোষ্ঠীকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিরোধীরা বারবার মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে আদানিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে। পাশাপাশি মার্কিন শর্টসেলার সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ দাবি করেছিল, আদানিরা বাজারকে প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে এবং অ্যাকাউন্টে কারচুপির অভিযোগও তুলেছিল তারা। হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দাম বড় ধাক্কা খায়। রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, আদানি গোষ্ঠীর বাজারমূল্যে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনেকটাই সত্যি হয় বলে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন। যদিও সেবি এই অভিযোগ খারিজ করেছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তির তালিকায় এখনও এক নম্বরে রয়েছেন ইলন মাস্ক। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৫৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ল্যারি পেজ (২৮৬ বিলিয়ন ডলার), তৃতীয় স্থানে জেফ বেজোস (২৬৯ বিলিয়ন ডলার)। চার ও পাঁচ নম্বরে রয়েছেন যথাক্রমে সের্গেই ব্রিন (২৬৬ বিলিয়ন ডলার) এবং মার্ক জুকারবার্গ (২৩৯ বিলিয়ন ডলার)। ভারতের ধনীতম তালিকায় আদানি ও আম্বানির পরেই রয়েছেন লক্ষ্মী মিত্তল। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার।






