কলকাতা

খামেনেই-র মৃত্যুতে রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য! বন্ধ আকাশসীমা, কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান বিপর্যয়

বিশেষ করে বাংলা এবং কলকাতা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

Truth of Bengal: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার তেহরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। এই হামলায় খামেনেইয়ের পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পরেই ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক বিস্তীর্ণ অংশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতেও। বিশেষ করে বাংলা এবং কলকাতা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো। এর ফলে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কাতার ও সৌদি আরবগামী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমান বাতিল করতে হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, কলকাতা থেকে দুবাইগামী ফ্লাই এমিরেটস, দোহাগামী কাতার এয়ারলাইন্স এবং আবু ধাবিগামী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের উড়ানগুলো বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও এয়ার অ্যারাবিয়ার বিমান পরিষেবাও বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ যাত্রী। তাঁদের অভিযোগ, বিমান বাতিল হওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি, যার ফলে বিমানবন্দরে পৌঁছে তাঁদের চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে বেশ খানিকটা উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দুবাইয়ের আকাশসীমা অবরুদ্ধ থাকার কারণে তাদের অনেকগুলো রুটে পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি না নিতেই তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এখন আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন বিমানবন্দরে অসংখ্য ভারতীয় নাগরিক এই মুহূর্তে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আবুধাবির ভারতীয় দূতাবাস থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। আমিরশাহি প্রশাসন এবং বিভিন্ন বিমান সংস্থার সঙ্গেও দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত সাহায্য করা সম্ভব হয়। যুদ্ধের আঁচ এই মুহূর্তে কমছে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে, ফলে আগামী কয়েকদিন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে স্বাভাবিক যাতায়াত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Related Articles