“আস্ত একটা দলই চুরি হয়ে গেল!” তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হতেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ রাহুলের
"মমতার ঘাসফুল কেড়ে নিয়ে মোদিকে জন্মদিনের উপহার!", কেজরিওয়ালের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় দিল্লি!
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঐতিহাসিক ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন দিল্লির রাজপথ স্পর্শ করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে সুর চড়িয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রত্যেকেই নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “যে দেশে একটি ঐতিহ্যবাহী গোটা দল এবং তার প্রতীক এভাবে রাতারাতি চুরি হয়ে যায়, সেখানে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের ভোট চুরি হওয়াটা কোনও অসম্ভব ব্যাপার নয়। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।” অন্যদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে নিজের হাতে আঁকা ঘাসফুল প্রতীক কেড়ে নিয়ে আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে উপহার দিল নির্বাচন কমিশন!”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, কোনও পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক বা মূল দলীয় নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। উভয় পক্ষকেই বিকল্প নাম ও ১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে নতুন চিহ্ন বেছে নিতে হবে।
জাতীয় রাজনীতিতে অবশ্য এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)-র অন্দরে একইভাবে আড়াআড়ি বিভাজন ঘটেছিল। সেখানেও একনাথ শিন্ডে ও অজিত পাওয়ারের মতো বিদ্রোহী নেতারা মূল প্রতীক ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিজেপি জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতাদের মতে, মহারাষ্ট্রের সেই একই ‘বিভাজন ও দখলের’ নকশা এবার বাংলাতেও প্রয়োগ করার চেষ্টা চালাচ্ছে পদ্ম শিবির। তবে সমস্ত রাজনৈতিক আক্রমণ ও সমালোচনার মধ্যে উপনির্বাচনের আগে নতুন নাম ও প্রতীকে কীভাবে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা হয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।





