রাজ্যের খবর

ছাত্রী নেই একটাও, শিক্ষকরা শুধু সই করেই হাওয়া! মালদার স্কুলে গিয়ে চোখ কপালে আধিকারিকের

সংবাদমাধ্যমে খবর হতেই কড়া অ্যাকশন! মালদার স্কুলে এআই-এর সারপ্রাইজ ভিজিট, ধরা পড়ল কঙ্কালসার চেহারা

অভিষেক দাস, মালদা: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বজায় রাখতে ও বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নবান্নের কড়া নজরদারি চালু রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই মালদার এক সরকারি বিদ্যালয়ে সামনে এল গাফিলতির চরম কঙ্কালসার চিত্র! স্কুলে একটাও ছাত্রী নেই, অথচ শিক্ষকরা কেবল হাজিরা খাতায় সই করতে এসেই দায়িত্ব শেষ করে চলে যান, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালেই সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলেন জেলা শিক্ষা দফতরের এআই অফ স্কুলস (AI of Schools) শুকদেব প্রামাণিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের ওই নামী কেন্দ্রীয় আপার প্রাইমারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরেই পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে বলে নানা মহল থেকে নালিশ উঠছিল। এমনকি সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জানা যায়, ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্কুলে খাতায়-কলমে মোট ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র সাত জন! কিন্তু অভিযোগ হচ্ছিল যে, শিক্ষকেরা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না হয়ে স্রেফ হাজিরা খাতায় সই ঠুকে কেটে পড়েন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার স্কুলে সারপ্রাইজ ভিজিট করেন এআই অফ স্কুলস শুকদেব প্রামাণিক। সেখানে পৌঁছাতেই চোখ কপালে ওঠে জেলা শিক্ষা আধিকারিকের! দেখা যায়, সুবিশাল স্কুলেই একজনও ছাত্রী উপস্থিত নেই। ক্লাসরুমগুলি ফাঁকা খাঁ খাঁ করছে। আর কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন ক্লার্ক! বাকিদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দাবি করা হয় যে, কেউ ক্যাজুয়াল লিভে রয়েছেন আর কেউ নাকি অন্য স্কুলে পরীক্ষার ডিউটিতে গিয়েছেন।

তবে পরিদর্শনের পর এআই অফ স্কুলস শুকদেব প্রামাণিক জানান, “স্কুলের পরিকাঠামো বা বিল্ডিংয়ের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা হাজিরা খাতা এবং সমস্ত রেজিস্টার রেকর্ড খতিয়ে দেখেছি। প্রতিটি তথ্য ও অনুপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। দফতর থেকেই এই চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” শিক্ষাঙ্গনে সই-দুর্নীতির এই মারাত্মক ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Related Articles