“দেশদ্রোহী জ্ঞানেশ কুমার!”, কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী
"গণতন্ত্রের ওপর এত বড় আক্রমণ আগে হয়নি, কাউকে ছাড়ব না!" সাংবাদিক সম্মেলনে চাঁচাছোলা লোকসভার বিরোধী দলনেতা
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত ও নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংঘাতের খবর চাউর হতেই জাতীয় রাজনীতিতে আক্রমণের ধার দ্বিগুণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সংবিধান হাতে নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। চড়া সুরে রাহুল ঘোষণা করেন, “ভোট চুরি থেকেই দেশে আইন চুরির জন্ম হয়েছে। আজ অবাধ ভোটও নেই, আর স্বচ্ছ আইন প্রণয়নের ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে। যদি ভোটচুরির মাধ্যমে কেউ সংসদে এসে পৌঁছান, তবে তাঁদের আনা সমস্ত আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বদল সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ!”
বুধবার সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনার, সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং বিবেক জোশীকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একতরফাভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার। গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন ওই দুই কমিশনার।
এই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার এবং কোটি কোটি ভোট কেড়ে নেওয়া এক ধরনের দেশবিরোধী অপরাধ। জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন, তা দেশদ্রোহিতার সমতুল্য। এই অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি অপরাধীকে কড়া শাস্তি পেতেই হবে। আমরা সব সত্য দেশবাসীর সামনে ফাঁস করব।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৫ সালে জ্ঞানেশ কুমারকে যখন সিইসি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, তখনই প্যানেলের বৈঠকে তিনি লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। রাহুলের অভিযোগ, এনডিএ সরকার নিজের স্বার্থে সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নিয়োগ করেছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রের ওপর এত বড় আক্রমণ ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, আর এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কোনো অবস্থাতেই চুপ করে থাকবে না।” সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে অস্ত্র করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এবার অলআউট ওয়ার শুরু করে দিল হাত শিবির।






