দেশ

ঋতব্রত-সহ ১০ বিদ্রোহী বিধায়কের পদ খারিজের মামলা, স্পিকারের কোর্টে বল ঠেলল সুপ্রিম কোর্ট

শীর্ষ আদালতেও ধাক্কা কালীঘাটের! বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের ভাগ্য ঝুলছে বিধানসভার স্পিকারের হাতে

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন ভাঙন এবং দলীয় গৃহযুদ্ধের রেশ এবার আছড়ে পড়ল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করা বিদ্রোহী নেতা তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ষীয়ান নেতা অরূপ রায় এবং সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিধায়কদের পদ থাকা বা যাওয়ার আইনি ফয়সালা করার পূর্ণ একচ্ছত্র এক্তিয়ার কেবল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারেরই। একই সঙ্গে আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে এই সংবেদনশীল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার জন্য স্পিকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র মাস খানেকের মধ্যেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১০ জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আরও একাধিক বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে তাঁরা মূল দলের প্রতীক ও তহবিলের দাবি তোলেন। এই দলত্যাগের বিরুদ্ধে সরব হয়ে গত ৮ জুলাই বিধানসভার স্পিকারের কাছে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ঋতব্রত-সহ ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিলেন কালীঘাট শিবিরের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও স্পিকার কোনো পদক্ষেপ না করায় এবং উল্টে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ায়, ক্ষুব্ধ শোভনদেব সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হলে আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের আগে স্পিকারকে সংবিধান প্রদত্ত সময়সীমা ও সুযোগ দেওয়া উচিত। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “আমরা নিজেরাই অনেক সময় ডেডলাইন সঠিকভাবে মানতে পারি না, তাই অন্য কোনও সাংবিধানিক সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়ার আগে তা বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই স্পিকারকে এই পদ খারিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

এদিন সুপ্রিম কোর্টে মমতাপন্থী সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন দলীয় সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। শুনানি শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্ট মূল আর্জিটি খারিজ করে আবেদনটি স্পিকারের কোর্টেই ফেরত পাঠিয়েছে। আইন অনুযায়ী তিন মাসের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার দিন অর্থাৎ আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই স্পিকারকে বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের পদ খারিজ সংক্রান্ত মামলায় চূড়ান্ত রায় দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পর এখন পুরো রাজ্য রাজনীতির নজর বিধানসভার স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Related Articles