কলকাতা

এবার জেন জি-র মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী! নয়া প্রজন্মের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বসবেন শুভেন্দু

"৩ ঘণ্টা ধরে যত প্রশ্ন আছে করুন, জবাব দেব আমি", কৈখালির মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ধামাকা ঘোষণা!

Truth of Bengal: পরিবর্তনের পর বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এবার নতুন প্রজন্মের মন জয় করতে এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে সুনিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভগবতের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবার বাংলার ‘জেন জি’ (Gen Z) তথা উদীয়মান যুবপ্রজন্মের মুখোমুখি বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও প্রশাসনিক প্রোটোকল নয়, একেবারে ঘরোয়া মেজাজে ‘চায়ে পে চর্চা’ বা চা চক্রে বসেই তরুণ প্রজন্মের মনের কথা, তাদের নানা ক্ষোভ ও আকাঙ্খার কথা সরাসরি শুনবেন তিনি। সোমবার উত্তর কলকাতার কৈখালিতে আয়োজিত ‘যুব ভারত সংলাপ’ মঞ্চ থেকে এই মেগা ‘যুব মিট’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন শুভেন্দু।

এদিন সুবিশাল যুব সম্মেলনে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের উপস্থিতিতে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “খুব শীঘ্রই আমি আপনাদের সবার সঙ্গে একটি দীর্ঘ চায়ের আড্ডার আয়োজন করছি। তিন ঘণ্টা ধরে আপনাদের যত প্রশ্ন, সংশয় কিংবা উদ্ভাবনী চিন্তা রয়েছে, নির্দ্বিধায় আমাকে করবেন। কারণ আমাদের ডাবল-ইঞ্জিন সরকার আপনাদের জন্যই দিনরাত কাজ করছে। এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট, স্পোর্টস, স্কিল ট্রেনিং থেকে শুরু করে যুবসমাজের অগ্রগতির জন্য মোদিজির যা যা গ্যারান্টি রয়েছে, তা একশো শতাংশ নয়, আমরা দু’শো শতাংশ পূরণ করব।”

অনুষ্ঠানে যুবদের দিশা দেখাতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ডিজিটাল দুনিয়ার মোহের বাইরে এসে বাস্তবে মনোনিবেশ করার জোরালো বার্তা দেন। নীতিনবাবু বলেন, “আজকের তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়ার রিল (Reel)-এ বুঁদ না থেকে বাস্তব জীবন বা রিয়েল (Real)-এ ভরসা রাখতে হবে। ভারতকে পুনরায় বিশ্বগুরুর আসনে বসাতে যুবসমাজকেই কান্ডারী হতে হবে। মোবাইলের ছোট পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভারতের হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি, সাহিত্য, স্পোর্টস ও সঙ্গীতে নিজেদের অবদান রাখুন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিককালে বিরোধী একাধিক অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক দল যখন মিথ্যা ইস্যু তৈরি করে জলঘোলা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক সেই আবহে নীতিন নবীন ও শুভেন্দু অধিকারীর এই ইতিবাচক যুব-বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নীতিন জানান, দেশের নতুন প্রজন্ম কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা তা অনুধাবন করতে পারে। রাষ্ট্র গঠনের এই মহাযজ্ঞকে এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে রাজ্যজুড়ে দূরদর্শী ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন বাংলার নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শুভেন্দুর এই ‘চায়ে পে চর্চা’ নতুন এক ইতিহাস লিখতে চলেছে।

Related Articles