দেশ

ঝাড়খণ্ড পুলিশের বড় সাফল্য: ১৫ লাখি মদনসহ বঙ্গ ব্রিগেডের তিন শীর্ষ মাওবাদী গ্রেফতার 

একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা মাথার দাম থাকা সাব জোনাল কমান্ডার সাগর সিং ওরফে বীরেন এবং তাঁর স্ত্রী সাব জোনাল কমিটির সদস্য মীরা পাহাড়িয়াকে।

Truth of Bengal: সারাণ্ডার জঙ্গল থেকে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না। সংগঠন বিস্তারের উদ্দেশ্যে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মাও বঙ্গ ব্রিগেডের তিন প্রভাবশালী নেতা-নেত্রী। মঙ্গলবার ভোররাতে সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার কাণ্ডরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সিপিআই (মাওবাদী) রিজিওনাল কমিটির নেতা তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর বাসিন্দা মদন মাহাতো ওরফে শংকরকে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা মাথার দাম থাকা সাব জোনাল কমান্ডার সাগর সিং ওরফে বীরেন এবং তাঁর স্ত্রী সাব জোনাল কমিটির সদস্য মীরা পাহাড়িয়াকে।

গত সোমবার বাংলা ও ঝাড়খণ্ডসহ ৭টি রাজ্যের ডিজিপিদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই মাও-বিরোধী অভিযানে জোর গতি আসে। গোপন সূত্রে উদয়পুর গ্রামে বীরেনের উপস্থিতি জানতে পেরে দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। সেখান থেকেই একটি এ কে ৪৭ রাইফেল, ৯ এমএম পিস্তল, প্রচুর কার্তুজ ও ওয়াকিটকিসহ পাকড়াও করা হয় বীরেনকে। তাঁকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে নিকটবর্তী কাঁদেরবেড়া গ্রাম থেকে মদন ও মীরা পাহাড়িয়াকে গ্রেফতার করে তদন্তকারীদের অপর একটি টিম।

সম্প্রতি মাওবাদী পলিটবুরো সদস্য মিসির বেসরা গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্যদের নিয়ে ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া সীমানাঘেঁষা ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে ফিরে আসেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পর এই অঞ্চলে ফিরে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছিল এই গোষ্ঠীটি। বর্তমানে আকাশ ও শচিনসহ ছয়জন পূর্ব দলমা এলাকায় আত্মগোপন করে থাকলেও, বিশেষ সাংগঠনিক কাজে বেরিয়ে এই তিন মাওবাদী ধরা পড়ে যান। পুলিশের আশা, এই তিনজনকে জেরার মাধ্যমেই এবার মাওবাদী শীর্ষ নেতা আকাশ ও শচিনের ডেরার হদিশ মেলা সম্ভব হবে।