যন্তর মন্তরে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কুৎসিত’ আক্রমণ, মোদি ক্ষমা করতেই কিশোরীর বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিল দিল্লি পুলিশ
মায়ের আকুল আবেদন ও প্রধানমন্ত্রীর বড় মন! বড়সড় স্বস্তি পেল সোশাল মিডিয়ায় বিতর্ক তৈরি করা নাবালিকা
Truth of Bengal: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা ১৫ বছরের সেই কিশোরীকে ক্ষমা করে দিল পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ মানবিক বার্তার পর শেষমেশ ওই নাবালিকার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করে নিল দিল্লি পুলিশ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনের মঞ্চ থেকে একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছিল, যা নিয়ে গোটা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২৩ জুলাই। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চলাকালীন ক্যামেরার সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে ওই নাবালিকা। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরিস্থিতি বিষিয়ে উঠতেই নয়ডা পুলিশ একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে, যা পরবর্তীতে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীর এই কুরুচিকর মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আইনি জাঁতাকলে পড়ার পর চরম অনুতপ্ত হয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ওই কিশোরী। কান্নাভেজা কণ্ঠে সে বলে, “আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। প্রধানমন্ত্রীকে যা বলেছি তা ক্ষমার অযোগ্য হলেও, এটি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল। আমি গোটা দেশের কাছে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।” এরপরই কিশোরীর মা জনসমক্ষে আবেদন জানিয়ে বলেন, মেয়ে তার ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনায় ভুগছে; তাই তার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে যেন পুলিশ মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এক বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, ‘বিভ্রান্ত শিশু’দের শাস্তি দিয়ে বা আদালতে টেনে এনে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি তাদের ক্ষমা করে সঠিক পথে ফেরানোর বার্তা দেন এবং সমাজকেও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর সেই মানবিক অবস্থানের পর দিল্লির পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে আর কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। পুলিশের এই পদক্ষেপে বড়সড় স্বস্তি পেল ওই নাবালিকা ও তার পরিবার।






