দেশ

‘মা ফলেষু কদাচন!’ দিল্লির মঞ্চে গীতার শিক্ষা স্মরণ করিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় বার্তা মোদির

তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল গীতার কর্মযোগের দর্শন

Truth of Bengal: “কর্মই আমার ধর্ম, ভারতের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবেই।” প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই প্রত্যয়ী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল গীতার কর্মযোগের দর্শন। ফলের আশা না করে দেশ ও দেশবাসীর জন্য নিরন্তর কাজ করে যাওয়াই তাঁর সংকল্প—এদিন সেই বার্তাই বারবার উঠে এল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। বুধবার সকাল ১০টার পর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম থেকে বক্তব্য শুরু করেন মোদি। ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে মাথা নত করে প্রণাম জানান তিনি। এরপরই স্লোগান তোলেন, “We will do it”—আমরা এটা করে দেখাবই। নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং ‘সেবক’ হিসেবেই তুলে ধরেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, কর্মই তাঁর কাছে ধর্ম। ফল কী হবে, তা নিয়ে না ভেবে দেশের উন্নয়ন, মানুষের বিকাশ এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করাই তাঁর দায়িত্ব।

গীতার ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’ শ্লোকের ভাবার্থ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফলের প্রত্যাশা না করে কাজ করে যাওয়াই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল দর্শন। তাঁর কথায়, “আমি এখনও নিজেকে শিক্ষার্থী মনে করি। শেখার শক্তি যেন কখনও কমে না যায়।” ২৫ বছরের প্রশাসনিক জীবনের নানা অধ্যায়ের কথাও এদিন তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা অতিমারি মোকাবিলা থেকে মাওবাদী দমন, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান এবং জাতীয় নিরাপত্তা—বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। প্রতিটি সংকট তাঁকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং নতুন শিক্ষা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। মোদির কথায়, “প্রতিবার জনতা আমাকে সেবক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় কখনও ভাবিনি যে একদিন এই জায়গায় পৌঁছব। সবটাই জনতা-জনার্দনের আশীর্বাদ।”

ভাষণে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রসেবা এবং আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের উন্নতিতে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মোদি বলেন, “২৫ বছরে অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ হয়েছে। প্রত্যেক ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়েছি। রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে কখনও একা মনে হয়নি। সবসময় কর্মীদের পাশে পেয়েছি।” আগামী ভারতের লক্ষ্য নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উন্নত ভারত, আত্মনির্ভর ভারত এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার মাধ্যমেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর সেই লক্ষ্যে শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যাওয়াই তাঁর সংকল্প।

Related Articles