দেশ

ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই বীরভূমে কোমর বেঁধে নামলেন অনুব্রত, প্রথম দিনেই চলল দীর্ঘ বৈঠক

বৈঠক শেষে বর্ষীয়ান নেতা বিকাশ রায়চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Truth of Bengal: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ ফিরে পেয়েই ফের নিজের গড় গোছানোর কাজে নেমে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে সম্প্রতি তিনি এই নতুন শিবিরে যোগ দেন এবং পুনরায় বীরভূমের জেলা সভাপতির রাশ হাতে পান। পদ ফিরে পাওয়ার পরেই আর সময় নষ্ট না করে বোলপুরের জেলা কার্যালয়ে সোমবার রাতে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা— বিকাশ রায়চৌধুরী এবং নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন অনুব্রত। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, রাজনৈতিক মহলের দাবি, জেলার বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি সামনেই ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশ, তা নিয়েও তিন নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

বৈঠক শেষে বর্ষীয়ান নেতা বিকাশ রায়চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি বলেন, “অনুব্রতদা আগে আমাদের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। এখন আবার জেলা সভাপতি হয়েছেন, তাই ওঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। পাশাপাশি একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়েও আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে।” উল্লেখ্য, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিধানচন্দ্র মাঝির এই সাক্ষাৎ ঘিরে জেলা রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে কাজল-অনুব্রতর ঠান্ডা লড়াইয়ের আবহে এই ঋতপন্থী বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, “আমি কাজলদার সঙ্গেও আছি, আবার অনুব্রতদার সঙ্গেও আছি। দলের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে। কাজল-কেষ্ট বলে আলাদা কোনো বিভাজনের প্রশ্নই ওঠে না। অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বেই জেলার সংগঠনকে আগামীদিনে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”

বীরভূম জেলা রাজনীতিতে তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে বরাবরই একমেবাদ্বিতীয়ম ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর তৈরি করা শক্ত সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভর করেই রাঙামাটির এই জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ গেরুয়া শিবিরের প্রবেশ রুখে দিতে সফল হয়েছিল শাসকদল। এমনকি গরু পাচার মামলায় প্রায় ২ বছর জেলবন্দি থাকার পর যখন তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে আসেন, তখনও মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট’র জেলা সভাপতির পদটি অটুট ছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমের দুটি আসনই তৃণমূলের দখলে থাকার নেপথ্যে অনুব্রতর তৈরি করা মজবুত ভিতের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তবে পরবর্তীতে জেলায় দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়লে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এককভাবে কেষ্টর ওপর ভরসা না রেখে একটি ‘কোর কমিটি’ গঠন করে দেন, যেখানে অনুব্রতকে স্রেফ একজন সদস্য হিসেবে রাখা হয়। আর এ থেকেই তাঁর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। দীর্ঘদিনের নেত্রীর হাত ছেড়ে শেষমেষ ঋতব্রতর শিবিরে অনুব্রতর নাম লেখানো সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles