দেশ

বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব রেখেও মোদির ডাকে সাড়া! প্রাতঃরাশের টেবিলে কী কথা হল ইউসুফ-তাহেরদের?

'লুক ইস্ট' নীতি ও এলাকার উন্নয়ন! এনসিপিআই সাংসদদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পরামর্শ

Truth of Bengal: এনডিএ-র আয়োজিত পূর্ববর্তী দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। প্রকাশ্যে তাঁরা বারবার দাবি করেছেন যে, তাঁরা এনসিপিআই দলের সঙ্গে থাকলেও সরাসরি বিজেপির সাথে যুক্ত নন। এমনকি পৃথকভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতেও দেখা গিয়েছিল তাঁদের। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের মাঝে মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ, ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠকে উপস্থিত হবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা ও দ্বিমত উড়িয়ে শেষমেশ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিলেন এই তিন সাংসদই।

আসলে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একপ্রকার টানাপোড়েন চলছে। এনসিপিআই দল হিসেবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সরকারি স্বীকৃতি পায়নি। যদিও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বা কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের মতো নেতারা যে কালীঘাট তৃণমূল থেকে আলাদা একটি গোষ্ঠী, তা মেনে নিয়েছেন লোকসভার স্পিকার। ওই পৃথক গোষ্ঠী আবার এনডিএ-র জাতীয় স্তরের নানা বৈঠকে নিয়মিত আমন্ত্রণ পাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি এক সারিতে বসতেও দেখা গিয়েছে সুদীপ-কাকলিদের।

তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নির্বাচিত এই তিন সাংসদ নিজেদের কখনওই বিজেপির সঙ্গে একই মঞ্চে সরাসরি দেখাতে চাননি। সেই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তাঁরা এনডিএ-র সাধারণ বৈঠকগুলি এড়িয়ে চলছিলেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শুক্রবার নবগঠিত এনডিএ শরিকদের জন্য আয়োজিত এই প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেওয়া মানেই ছিল এনডিএ-র অংশ হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করা। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ তাঁরা এড়াতে পারেননি।

সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রাতঃরাশের টেবিলে তিন সাংসদই পৃথক রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত স্বীকৃতি না পাওয়া নিয়ে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যক্ত করেন। আবেদন জানানোর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় যে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেন তাঁরা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আপাতত ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংসদদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে বেশি নজর দিতে বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য এগোলেই সার্বিকভাবে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। কেন্দ্রের ‘লুক ইস্ট’ নীতির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি সংসদের ইতিহাস পড়া, বিভিন্ন সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য সাংসদদের উৎসাহিত করেছেন নরেন্দ্র মোদি।

Related Articles