রাজ্যের খবর

রেজিনগরে কর্মীদের নিয়ে দেওয়াল লিখন শুরু মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউলের

"মমতাদিকে ভালবেসে স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ!", দেওয়াল লিখন থেকেই ঋতব্রত শিবিরকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বার্তা

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছাল। প্রতীক ও দলীয় নাম বিভ্রাটের রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই রেজিনগরে পূর্ণ শক্তিতে প্রচারে নেমে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। রবিবার রাতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে রেজিনগরজুড়ে ব্যাপক দেওয়াল লিখন কর্মসূচির সূচনা করলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। হাতে তুলি ও রঙের বালতি নিয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরকে তীব্র ভাষায় তুলোধনা করেন তিনি।

রেজিনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রার্থীর মুখে শোনা গেল মিশ্র সুর। রবিউল আলম চৌধুরী স্পষ্ট জানান, উপনির্বাচনের প্রচারের নামার পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ কিংবা স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের কোনও কর্মী-সমর্থককে অহেতুক ভয় দেখায়নি কিংবা কোনো রকমের হেনস্থা করেনি। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক দাবি করে তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে, তবে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে বা ভবিষ্যতে কী রূপ নেবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজেদের জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, “যাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমরা রেজিনগরের পবিত্র ময়দানে নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছি, তাঁরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত সৎ, একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ। কোনও পদের লোভে নয়, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালবেসেই হাজার হাজার কর্মী আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের প্রচারে হাজির হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গেই রয়েছে।”

এদিন দেওয়াল লিখন কর্মসূচির মাঝেই ঋতব্রত পন্থী বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট করে দেন রবিউল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ঋতব্রতপন্থী তথাকথিত তৃণমূল প্রার্থীর কোনও রাজনৈতিক স্থান বা ভিত্তি নেই। আমি আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা দিয়ে যাচ্ছি, রেজিনগরের মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকদের এমন শিক্ষা দেবেন যে নির্বাচনে ওরা ‘নোটা’র (NOTA) চেয়েও কম ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত করবে!” রেজিনগরের বুকে মমতাপন্থী প্রার্থীর এহেন আক্রমণাত্মক প্রচার ও হুঙ্কারে নির্বাচনী আবহ যে চরম মাত্রায় পৌঁছাল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Related Articles