কলকাতা

তেহট্টে ডিম ছোড়ার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মহুয়া মৈত্র! আদালতের তোপের মুখে কি পুলিশ?

মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্যও আবেদন জানানো হয়েছিল

Truth of Bengal: তেহট্টে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। গত বুধবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রের একটি দলীয় কর্মসূচি থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি—এই অভিযোগ তুলেই সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মহুয়ার আইনজীবী। মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্যও আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে বিচারপতি সেই আর্জি গ্রহণ করেননি। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু জানিয়েছে, নিয়মিত তালিকা মেনেই মামলাটি শুনানির জন্য উঠবে।

ঘটনার সূত্রপাত তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড় এলাকায়। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। বৈঠক শেষে তিনি বেরোতেই একদল বিক্ষোভকারী কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনার কিছু অংশ ফেসবুক লাইভে তুলে ধরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহুয়া। মহুয়ার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ এই বিক্ষোভে যুক্ত ছিলেন। যদিও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে তাদের কর্মীদের কোনও যোগ নেই।

এর আগেও নিজের লোকসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় বিক্ষোভ ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মহুয়া। সেই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলাকে তাঁর সফরের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দিষ্ট কর্মসূচির আগে পুলিশ সুপারকে আগাম জানাতেও বলা হয়েছিল। তেহট্টের ঘটনার পর মহুয়া সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিরাপত্তায় ঘাটতি কেন রইল। পরে তেহট্ট থানায় অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। এবার সেই পুলিশি ভূমিকার বিরুদ্ধেই আইনি লড়াইয়ে নামলেন সাংসদ। ঘটনার দিন মহুয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের পুরনো একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। অগস্টে তাঁর একটি মামলার শুনানিতে রাজনীতিতে ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি। সেই প্রসঙ্গ তুলে মহুয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেন।

Related Articles