দেশ

তিরুপতির প্রসাদী লাড্ডুতে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর অপরাধে ইডি-র হাতে গ্রেফতার ঘি ব্যবসায়ী

ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পাম তেলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ঘি তৈরি করতেন।

Truth of Bengal: তিরুপতি মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী প্রসাদ লাড্ডু তৈরিতে ভেজাল ঘি সরবরাহের অভিযোগে এক নামী ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল ইডি। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সুকৃতি ফুডস সংস্থার কর্ণধার কৈলাশ চাঁদ মঙ্গলা এই ভেজাল মেশানোর কাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, খাঁটি গরুর ঘিয়ের নামে তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষকে পাম তেল এবং বিভিন্ন কেমিক্যাল মেশানো অত্যন্ত নিম্নমানের ঘি সরবরাহ করতেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে এবং বিশাখাপত্তনম আদালতে পেশ করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এই অন্যায়ের আসল সত্য সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পাম তেলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ঘি তৈরি করতেন। মন্দিরে যে ঘি সরবরাহ করা হতো, তার মধ্যে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশ্রিত ছিল, যা পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিরুপতি মন্দিরে যে ২৩০ কোটি টাকার ঘি কেনা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশই ছিল এই ভেজাল প্রক্রিয়ার অধীন। এর মধ্যে কেবল অভিযুক্ত কৈলাশ চাঁদ নিজেই প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ভেজাল ঘি সরবরাহ করেছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার এই দুর্নীতি চালানো হচ্ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, আইন ও পুলিশকে ফাঁকি দিতে অভিযুক্ত অত্যন্ত সুচতুর পথ বেছে নিয়েছিলেন। একাধিক ভুঁইফোড় ও মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে তিনি এই নকল ঘি সরবরাহ করতেন। নিজের কারখানায় কৃত্রিম ঘি তৈরি করলেও ব্যবসায়িক খাতায় পাম তেল কেনার কোনও সঠিক তথ্য রাখা হতো না। আসল সত্য ঢাকতে সমস্ত হিসাব ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজ সম্পূর্ণ জাল করা হতো। এই একই মামলায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে অন্য একটি ডেয়ারি সংস্থার মালিককে। মন্দির প্রশাসনের ভেতরেও এই চক্রের কত দূর প্রভাব ছিল এবং কোথায় কোথায় এই টাকা পাচার হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।