ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির জন্মদিনে বিশেষ উদযাপন ঝাড়গ্রামের সেই দোকানির
মোদির দীর্ঘায়ু কামনায় এদিন তাঁর দোকানে আসা প্রতিটি ক্রেতাকে অতিরিক্ত পরিমাণে ঝালমুড়ি উপহার দিলেন তিনি
Truth of Bengal: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটপ্রচারে জঙ্গলমহলে এসে ঝাড়গ্রামের রাজ কলেজ মোড়ে আচমকাই গাড়ি থামিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয় চবন লাল ঝালমুড়ির দোকান থেকে স্বাদে ভরা ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেই ঐতিহাসিক সফরের স্মৃতি আজও অমলিন জঙ্গলমহলের বুকে। বৃহস্পতিবার মোদিজির জন্মদিনে সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তকে ফের একবার উসকে দিয়ে অনন্য কায়দায় জন্মদিন পালন করলেন রাজ কলেজ মোড়ের ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম কুমার সাউ। মোদির দীর্ঘায়ু কামনায় এদিন তাঁর দোকানে আসা প্রতিটি ক্রেতাকে অতিরিক্ত পরিমাণে ঝালমুড়ি উপহার দিলেন তিনি।
বিক্রম কুমার সাউ আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, “গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম সফরের সময় বিশ্বনেতা মোদিজি নিজে আমার এই ছোট দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। সাধারণ একজন বিক্রেতার কাছে সেই মুহূর্তটা আজীবন রাজকীয় এক প্রাপ্তি। আজ তাঁর জন্মদিনে দোকানে ছোট করে কেক কেটে ও ছবি সাজিয়ে সেই মেমোরি রি-ক্রিয়েট করলাম। ঈশ্বর ওনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন দান করুন।” সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ফের ছড়িয়ে পড়তেই এদিন বিক্রমের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে। ঝাড়গ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী সাবিত্রী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মহাপুজোর আয়োজন করেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ ও রিমিঝিম সিং-সহ পদ্ম শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা। বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরা লাল-পাড় সাদা শাড়িতে সজ্জিত হয়ে ধামসা-মাদলের আদিবাসী নৃত্যের তালে তালে পুজোর মণ্ডপে শামিল হন। বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, “মোদিজির জন্মদিন মানেই কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানোর শপথ নেওয়ার দিন। জেলার প্রান্তিক মানুষের জন্য আমাদের সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”
পুজোর পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মাঝে ফল বিতরণ করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। জেলার সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যালয় ও মন্দিরে সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিশেষ করে গোপীবল্লভপুর বিধানসভার ঐতিহ্যবাহী চাড়দা কালী মন্দিরে ১,০০০টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করা হয়। ছোট ঝালমুড়ির দোকান থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের আদিবাসী মণ্ডপ, জন্মদিনের আমেজে উৎসবমুখর হয়ে উঠল গোটা ঝাড়গ্রাম।






