জোড়াফুল অতীত, সামনে এল নতুন লোগো! ফুটবলার প্রতীক নিয়ে নতুন চমক মমতা তৃণমূলের
জাতীয় পতাকার তিন রঙে সাজল নতুন প্রতীক! উপনির্বাচনের ঠিক আগেই বড় সিদ্ধান্ত মমতা তৃণমূলের
Truth of Bengal: ২০২১ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের বুকে ভাঙা পায়ে, হুইলচেয়ারে বসে হাতে ফুটবল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আইকনিক প্রচারের ছবি আজও রাজনৈতিক মহলে চর্চিত। রাজনৈতিক সমীকরণের কী অদ্ভুত খেলা, এবার সেই ‘হেভিওয়েট’ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফে মমতার দলের হাতেই প্রতীক হিসেবে জুটেছে সেই ‘ফুটবলার’! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির ও কালীঘাট শিবিরের রক্তক্ষয়ী আইনি লড়াইয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কমিশনের নির্দেশে বাতিল ও ফ্রিজ হয়ে যায় অবিভক্ত তৃণমূলের আদি নাম ও ঐতিহাসিক ‘ঘাসফুল’ প্রতীক। এহেন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উপনির্বাচনের রণক্ষেত্রের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ নতুন দলীয় লোগো প্রকাশ্যে আনল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
নয়া এই লোগোটির কেন্দ্রে রয়েছে কমিশনের দেওয়া নতুন প্রতীক ‘ফুটবলার’। গাঢ় নীল রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড বা প্রেক্ষাপটের ওপর স্পষ্ট সাদা হরফে বড় বড় করে লেখা রয়েছে দলের স্বীকৃত নতুন নাম, ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (Mamata All India Trinamool Congress)। আর এই নামের ঠিক মাঝখানেই শোভা পাচ্ছে ভারতের জাতীয় পতাকার তিন রঙ, অর্থাৎ গেরুয়া, সাদা এবং সবুজের সুদৃশ্য স্পর্শ। প্রতীকী লড়াইয়ে অত্যন্ত কৌশলী চাল চেলেই নির্বাচন কমিশনে তিনটি এমন প্রস্তাবিত নাম পাঠিয়েছিলেন মমতা, যাতে ‘মমতা’ ও ‘তৃণমূল’ দুটি শব্দই বজায় থাকে। লোগোর প্রতীকের তালিকায় মমতার পছন্দ ছিল ‘ফুটবলার’ ও ‘ব্যাট’; শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ‘ফুটবলার’ প্রতীকটিকেই চূড়ান্ত মান্যতা প্রদান করে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন, যার পরপরই কলকাতা পুরসভা-সহ একাধিক পুর নির্বাচন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আদি প্রতীক হাতছাড়া হওয়া নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা। তবে সেই সংকট কাটাতে ইতিমধ্যেই কালবিলম্ব না করে ময়দানে নেমে পড়েছেন কালীঘাটের নেতা-কর্মীরা। নতুন লোগো ও প্রতীক সাধারণ ভোটারের কাছে পৌঁছে দিতে তৃণমূল সাংসদ, বিধায়ক ও ডিজিটাল অনুগামীরা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে নয়া লোগোর প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর থেকেই অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয় নজিরবিহীন মুষলপর্ব। জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়কই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করে প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মমতা শিবির থেকে বেরিয়ে যান। দুই পক্ষের ব্যাপক টানাটানির পর ১৮ সেপ্টেম্বর কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুরনো ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ বা ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। মমতার শিবিরের নতুন নাম হয় ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (প্রতীক: ফুটবলার) এবং ঋতব্রত শিবিরের নতুন নাম নথিভুক্ত হয় ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (প্রতীক: খাম)। এখন দেখার, নতুন এই ‘ফুটবলার’ প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে প্রতিপক্ষকে গোল দিতে পারেন কি না মমতা!






