দেশ

লোকসভার অন্দরে বিরাট নাটক! স্পিকারের ডেডলাইনের শেষ দিনেও সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা

পঞ্চম বার সময় ভিক্ষা! দলত্যাগ বিরোধী মামলার খাঁড়া থেকে বাঁচতে মরিয়া এনসিপিআই সাংসদরা

Truth of Bengal: লোকসভার অন্দরে দলবদল মামলার জল ক্রমশ গড়াচ্ছে গভীর খাদের দিকে! দলত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দেওয়ার শেষ দিন মঙ্গলবার নির্ধারিত থাকলেও, সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে ইমেল পাঠালেন বিদ্রোহী এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা। এই নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। এর ফলে এই মেগা রাজনৈতিক মামলার নিষ্পত্তি ঘিরে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ঠিক কী নিয়ে এই আইনি লড়াই?

বাংলার রাজনীতিতে গত বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তপ্ত হয়ে ওঠে তৃণমূলের অন্দরমহল। দল ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ মোট ২০ জন হেভিওয়েট সাংসদ একসঙ্গে যোগ দেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-তে। শুধু তাই নয়, সংসদে তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন এবং বসার আসনও বদল করেন।

কিন্তু দলীয় প্রতীকে জিতে অন্য দলে যোগ দেওয়ার এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ঘাসফুল শিবির। সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী এই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজ করার জোরালো দাবি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত আবেদন করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি, তাই এখানে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হতে পারে না।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি

স্পিকারের সচিবালয় সূত্রে খবর, বর্তমানে স্পিকার দিল্লির বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলেই সাংসদদের এই নতুন সময় বাড়ানোর আবেদনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বারবার সময় চেয়ে নেওয়ার এই প্রবণতায় স্পষ্ট যে, আইনি গ্যাঁড়াকল থেকে বাঁচতে দীর্ঘ সময় চাইছে বিদ্রোহী শিবির।

এদিকে, এই গোটা মামলাটি ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন রয়েছে। শীর্ষ আদালত মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ অভিযুক্ত ২০ জন সাংসদ এবং খোদ লোকসভার স্পিকারকে নোটিস পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার ওম বিড়লা বিদ্রোহী সাংসদদের আর সময় দেন, নাকি সরাসরি কোপ বসান তাঁদের সাংসদ পদের ওপর, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের!

Related Articles