তৃণমূল ছেড়ে এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার খেসারত? লোকসভার স্পিকারের কাছে নতুন চিঠি দলত্যাগী সাংসদদের
প্রশ্নের জবাব দিতে ফের অতিরিক্ত সময় চাইলেন তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদ
Truth of Bengal: কেন তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করা হবে না—লোকসভার স্পিকারের সেই প্রশ্নের জবাব দিতে ফের অতিরিক্ত সময় চাইলেন তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদ। বৃহস্পতিবারই তাঁদের জবাব দেওয়ার সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তার আগেই স্পিকার ওম বিড়লার কাছে নতুন করে সময় চাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন তাঁরা। সূত্রের দাবি, আরও প্রায় দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হতে পারে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের সংসদীয় শিবিরেও বড় ভাঙন ধরে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-তে যোগ দেন। পরে তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানান।
সংসদে তাঁদের আসনবিন্যাসে পরিবর্তন হলেও এখনও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে NCPI-র পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সাংসদ পদ থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও স্পিকার ওম বিড়লার কাছে বিচারাধীন। এই ২০ সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে আগেই স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ায় সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন প্রয়োগ হওয়া উচিত। অন্যদিকে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের দাবি, তাঁদের পদক্ষেপ সাধারণ দলত্যাগ নয়, বরং বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি বা ‘মার্জার’-এর আওতায় পড়ে। ফলে দশম তফসিলের অধীনে তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হওয়ার প্রশ্ন নেই বলেই তাঁদের অবস্থান।
লোকসভা সচিবালয় তাঁদের কাছে ইতিমধ্যেই একাধিকবার জবাব চেয়েছে। প্রথমে স্বল্প সময় দেওয়া হলেও পরে একাধিক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ৮ অক্টোবরের মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট নথি সংগ্রহ এবং বিস্তারিত জবাব তৈরির জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে দাবি সাংসদদের। এই বিতর্ক এখন সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া না গেলেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রত্যাশিত। ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের সিদ্ধান্ত যাতে অযথা ঝুলে না থাকে, সে কথাও স্পষ্ট করেছে আদালত। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৈঠকে বসছেন NCPI-র ওই সাংসদরা। স্পিকারের কাছে কী জবাব দেওয়া হবে, আরও সময় চাওয়ার আইনি ভিত্তি কী হবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল—সবই সেই বৈঠকে আলোচনার সম্ভাবনা।






