দেশ

গোয়ার নৈশক্লাবে ভয়াবহ আগুন, ২৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ফতিমা জানান, যারা দ্রুত বাইরে বেরোতে পেরেছিলেন তারা রক্ষা পান, কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কয়েকজন বেসমেন্টে আশ্রয় নেন।

Truth Of Bengal: শনিবার রাত সাড়ে ১২টা। সপ্তাহান্তের সন্ধ্যা হওয়ায় উত্তর গোয়ার আরপোরা গ্রামের একটি নৈশক্লাবে তখন উপচে পড়া ভিড়। দোতলায় নাচগানের বিশেষ আয়োজন ছিল, যেখানে ক্লাবের সদস্য, কর্মী এবং পর্যটক মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হায়দরাবাদের বাসিন্দা ফতিমা শেখও। তিনি জানান, সবাই আনন্দে মত্ত ছিলেন, হঠাৎই খবর আসে আগুন লেগেছে। নাচগানের জায়গার ঠিক পাশেই আগুন দেখা যায়। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এবং সবাই একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামার চেষ্টা শুরু করেন।

ফতিমা জানান, যারা দ্রুত বাইরে বেরোতে পেরেছিলেন তারা রক্ষা পান, কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কয়েকজন বেসমেন্টে আশ্রয় নেন। আগুনের তাপ ও কুণ্ডলী পাকানো ঘন ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে ওঠে। পর্যটকদের অনেকে যতটা সম্ভব দূরে সরে যান, কিন্তু যারা ভিতরে আটকে পড়েছিলেন তাঁদের উদ্ধার করা যায়নি। বেসমেন্টে রান্নাঘর ছিল, সেখানে কয়েকজন কর্মী কাজ করছিলেন। আতঙ্কে কিছু পর্যটকও সেখানে আশ্রয় নেন।

ক্লাবটির সাজসজ্জায় তালপাতা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা আগুনের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। আরপোরা নদীর ধারে অবস্থিত এই ক্লাবের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ খুব সরু হওয়ায় দমকলের গাড়ি ভেতরে পৌঁছাতে অসুবিধা হয়। প্রায় ৪০০ মিটার দূরে দমকলের গাড়ি থামিয়ে কর্মীদের হেঁটে এগোতে হয়। ততক্ষণে ক্লাবের বড় অংশই পুড়ে গিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বেসমেন্ট থেকে বেশ কয়েকজনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং চার জনকে ঝলসানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেসমেন্টের রান্নাঘরে আটকে পড়া ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চার জন পর্যটক। দমকলকর্মীদের মতে, অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। মৃতদের মধ্যে ১৪ জন হোটেল কর্মী, চার জন পর্যটক এবং আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। ১৮ জনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাবন্ত। ক্লাবের মালিক ও জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৬ জন আহত। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ক্লাবের ভিড় ছিল অত্যধিক এবং বেরোনোর পথ ছিল খুবই সংকীর্ণ, যার ফলে অনেকেই পালাতে পারেননি। কেউ কেউ নীচতলায় আশ্রয় নিতে গিয়ে সেখানেই আটকা পড়ে প্রাণ হারান।

Related Articles