ছত্তিশগড়ে আইইডি বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
Additional Superintendent of Police dies in IED blast in Chhattisgarh
Truth of Bengal: ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদীদের পাতা আইইডি (এএসপি)। এছাড়াও আহত হয়েছেন একাধিক পুলিশ আধিকারিক ও জওয়ান। সোমবার সকালে দোন্দ্রা গ্রামের কাছে কোন্টা-এরাবোরা সড়কে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নিহত পুলিশ অফিসারের নাম আকাশ রাও গিরিপুঞ্জে। তিনি সুকমা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি প্রেসার আইইডি-তে চাপ পড়াতেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন কোন্টার এসডিপিও, স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং এক জওয়ান। তাঁদের প্রথমে কোন্টা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আকাশ রাও গিরিপুঞ্জের মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রায়পুরে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চবণ এবং বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ এই ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
বলা বাহুল্য গত কয়েকদিন ধরে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম হয় শীর্ষ মাও নেতা থেকে মাও কমান্ডারদের। সম্প্রতি যৌথবাহিনীর একাধিক অভিযানে শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী নেতাদের নিকেশ করা হয়েছে। সেই প্রতিশোধ হিসেবেই আগামী ১০ জুন ভারত বনধের ডাক দিয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)। এই বনধ ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টহলে বেরিয়েছিল পুলিশের একটি দল। কোন্টা এলাকায় পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছিলেন পুলিশ আধিকারিক ও জওয়ানরা। সেই সময়ই এই বিস্ফোরণ ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা।
উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরেইবস্তার অঞ্চলে জঙ্গি দমন অভিযানেপ্রায় ২৪ হাজার নিরাপত্তা কর্মীযুক্তহন।ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি), বস্তার ফাইটার্স, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), রাজ্য পুলিশের সমস্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং এর অভিজাত ইউনিট কোবরা সহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীরাএইঅভিযানেরসঙ্গেযুক্তরয়েছে। ২০২৪ সালে বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ২৮৭ জন মাওবাদীর। গ্রেফতার হয়েছে হাজারেরও বেশি, পাশাপাশি আত্মসমর্পণ করেন ৮৩৭ জন।চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ছত্তিশগড়ের পৃথক এনকাউন্টারে ১৪৬ জন নকশালকে খতম করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজাপুর-সহ সাত জেলা নিয়ে গঠিত বস্তার ডিভিশনে ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গেএখন পর্যন্ত শত শত নকশাল আস্তানা ও বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য, ডেটোনেটর, খাদ্য মজুদ এবং নিত্যব্যবহারের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।






