মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতেও আয়কর হানা! “ক’টা বিজেপি নেতার বাড়িতে তল্লাশি?”, হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর
ভোটের সকালেই এলগিন রোডে কেন্দ্রীয় বাহিনী! মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মিরাজ শাহের ডেরায় হানা দিল আয়কর।
Truth of Bengal: ভোটের ময়দানে এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ‘ছায়াসঙ্গী’র ড্রয়িংরুমে আয়কর হানা! শুক্রবার সাতসকালে রাসবিহারীর প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ির পাশাপাশি এলগিন রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রস্তাবক মিরাজ শাহের বাড়িতেও পৌঁছে গেলেন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। ভবানীপুরের ঘরের ছেলের বাড়িতে এই কেন্দ্রীয় অভিযানের খবর চাউর হতেই তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শাসকদলের সাফ দাবি, ইডি-সিবিআইয়ের পর এবার আয়কর দফতরকে ‘অস্ত্র’ করে ভোটে জিততে চাইছে বিজেপি।
গত ৮ এপ্রিল যখন মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দেন, তখন সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে যে চারজন প্রস্তাবককে তিনি সাথে রেখেছিলেন, তাঁদের অন্যতম ছিলেন এই মিরাজ শাহ। ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মিরাজ এলাকায় অত্যন্ত সজ্জন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্রস্তাবক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই ‘ঘনিষ্ঠ’ মিরাজের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় এই তল্লাশিকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই দেগে দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
শুক্রবার দুপুরেই কোচবিহারের সভা থেকে এই তল্লাশি নিয়ে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, “কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে বাংলায় বসে আছে। আর আমার প্রার্থীর বাড়ি, পার্টি অফিসে তল্লাশি করছে। এক একজন বিজেপি নেতা ২০-২৫টা সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার হয় না। আমি জানতে চাই, ক’টা বিজেপি নেতার বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে?” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হার নিশ্চিত জেনে এখন কেন্দ্রীয় সংস্থা আর নির্বাচন কমিশনকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার কেবল মিরাজ বা দেবাশিস কুমারই নন, সল্টলেক এবং মিডলটন স্ট্রিটের মতো কলকাতার একাধিক ‘ভিভিআইপি’ এলাকাতেও আয়কর হানা চলেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এই মেগা তল্লাশি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ভোটের ঠিক আগে বড় কোনও আর্থিক লেনদেনের হদিশ পেতেই এই সক্রিয়তা। তবে মিরাজ শাহের মতো অরাজনৈতিক ভাবমূর্তির মানুষের বাড়িতে এই হানা সাধারণ ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।






