ভোটের মুখে গভীর ষড়যন্ত্র! স্টিং ভিডিয়ো তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হুমায়ুন
ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে থাকা ‘ষড়যন্ত্র’ ফাঁস করতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা।
Truth of Bengal: ভোটের বাজারে এবার ‘স্টিং’ বিস্ফোরণ! আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ওলটপালট হয়ে গেল রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ। ভিডিয়োতে তাঁকে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে আঁতাত এবং মুসলিম ভোট কাটার ছক কষতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে এই ভিডিয়োর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন হুমায়ুন কবীর নিজেই। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়ের করে তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করতেই কেউ গভীর ষড়যন্ত্র করে এই ভিডিও ভাইরাল করেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি Truth of Bengal) হুমায়ুন কবীরকে জনৈক বিজেপি নেতার সঙ্গে বিস্ফোরক কথোপকথন চালাতে শোনা গিয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “যে কোনও মূল্যে আমি মমতাকে সরাতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও আমাকে বলা হয়েছে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে।” শুধু তাই নয়, ভিডিয়োতে হুমায়ুনকে দাবি করতে শোনা গিয়েছে যে, মুসলিম ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে সরিয়ে নিতে পারলেই বিজেপির জয় নিশ্চিত, আর তার বিনিময়ে তাঁকে ‘উপমুখ্যমন্ত্রী’ করার টোপ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি ছিল টাকার অঙ্ক নিয়ে। ভিডিয়োতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “মুসলিমদের বোকা বানানোর পরিকল্পনা আমি সেরে ফেলেছি। তবে এর জন্য আমার কিছু টাকার দরকার। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা করে খরচ করতে হবে। সব মিলিয়ে হাজার কোটি টাকা দরকার।” তিনি আরও দাবি করেন যে, বাবরি ইস্যু তুলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে তিনি ৭০-৮০টি আসন অনায়াসেই পকেটে পুরতে পারবেন। এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায় যে, হুমায়ুন কবীর আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছেন।
যদিও এই ভিডিও নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মুখ খুলেছেন। বাংলায় প্রচারে এসে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই ধরণের ভিডিও ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হতে পারে। এবার এই যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটাতে আদালতের কড়া নাড়লেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, এই ভিডিওর ফরেনসিক তদন্ত হোক এবং নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি দেওয়া হোক। আগামী ২২ এপ্রিল এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, আদালতের হস্তক্ষেপে এই ‘হাজার কোটির ডিল’ রহস্যের পর্দা ফাঁস হয় কি না।






