মোটা অঙ্কের নির্বাচনী চাঁদা পেয়ে ইন্ডিগো নিয়ে নীরব মোদি সরকার! কংগ্রেসের ঝড়ো অভিযোগ
কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৫ কোটি। এমনকি কোভিড-লকডাউনের সময় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ইন্ডিগো চারটি রাজনৈতিক দলকে এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা দেয়।
Truth Of Bengal: গত পাঁচ দিন ধরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে চলছে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। শয়ে শয়ে উড়ান বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। এই পরিস্থিতি আগেভাগে জানা সত্ত্বেও কেন্দ্র বা সংস্থা—দু’পক্ষেরই কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। যাত্রীদের এই ভোগান্তিকে কেন্দ্র করে এবার সরব হয়েছে কংগ্রেস।
শনিবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেস সাংসদ শক্তিকান্ত সেম্বিল দাবি করেন, নির্বাচনী বন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর পরিচালন সংস্থা ইন্টারগ্লোব গোষ্ঠীর সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠ আর্থিক লেনদেন ছিল। তাঁর অভিযোগ, মোটা অঙ্কের নির্বাচনী চাঁদা পেয়েই ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক ছিল কেন্দ্র। ফলে যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে আপস করেছে মোদি সরকার।
কংগ্রেসের দাবি, ইন্ডিগোর মালিক রাহুল ভাটিয়া ও তাঁর সংস্থা ইন্টারগ্লোব নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে মোট ৫৬ কোটি টাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দিয়েছে, যার মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ৩১ কোটি টাকা। কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৫ কোটি। এমনকি কোভিড-লকডাউনের সময় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ইন্ডিগো চারটি রাজনৈতিক দলকে এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা দেয়। কংগ্রেসের মতে, সেই আর্থিক সম্পর্কই এই অব্যবস্থাকে এতদিন চেপে রাখার মূল কারণ।
যদিও এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র এখন ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডিজিসিএর প্রাথমিক ধারণা, কেন্দ্রের নতুন বিধি ইন্ডিগোকে আগেই জানানো হয়েছিল। সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল সংস্থার, কিন্তু তা করা হয়নি। এর ফলেই তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা ও যাত্রীদের ভোগান্তি।
ইন্ডিগোকে ইতিমধ্যেই নোটিস দিয়েছে ডিজিসিএ। অভিযোগ, কেন আগেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সে বিষয়ে উত্তর চাইতে হবে সংস্থাকে। শোনা যাচ্ছে, ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে একাধিক স্তরে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মোটা অঙ্কের জরিমানা ছাড়াও তাদের উড়ান পরিচালনার অনুমতি কমানোর কথাও ভাবছে কেন্দ্র।




