বিহারের রাজনীতিতে নতুন মোড়, বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ তেজস্বী
বুধবার আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলটের বৈঠক যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে বলে জানা গেছে।
Truth Of Bengal: বিহার নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদবকে। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিকাশশীল ইনসান পার্টির প্রধান মুকেশ সাহানিকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, বিহারে জয়ী হলেও কংগ্রেস বড় কোনো পদ পাবে না।
বিরোধী জোটের এই আসন বন্টন নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে কিছুটা অনীহা থাকলেও জোটের ঐক্য রক্ষার স্বার্থে তাদের মাথা নত করতে হয়েছে। বুধবার আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলটের বৈঠক যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আসন বন্টন চূড়ান্ত হয়নি বলে গেহলট স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ৫ থেকে ১০টি আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হতে পারে।
অশোক গেহলট মনে করেন, এনডিএর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ইন্ডিয়া জোট একজোট হয়ে লড়াই করবে। বিহার কংগ্রেসের অনেক নেতা চাননি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে এত আগ্রহ প্রকাশ করতে, তবে শেষ পর্যন্ত আরজেডির দাবিতে তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়েছে।
জোটের এই ঘোষণায় কংগ্রেসের অংশগ্রহণ সীমিত রয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নামও ঘোষিত হয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের কোনো প্রার্থী নেই। বরং ভিআইপি দলের প্রধানকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জোটের নাম ‘মহাগঠবন্দন’ হলেও আসন বন্টন নিয়ে নানা মতভেদের কারণে অন্তত ১২টি আসনে জোটের শীর্ষ দলগুলো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে গেহলট আশাবাদী যে বিহারে ইন্ডিয়া জোটের সরকার গড়ার পর আরও একজন অনগ্রসর শ্রেণির নেতাকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ দেওয়া হবে। সেই পদও কংগ্রেসের হয়ে উঠবে কি না, সেটা এখনো অনিশ্চিত।
বহিরাগত চাপ ও দলের স্বার্থ মিলিয়ে কংগ্রেসকে বড় পদ থেকে নিজেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। এভাবেই বিহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের সমঝোতা হয়েছে, যেখানে দলের ঐক্য বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য।






