দেশ

Kerala Hepatitis: কেরলে মহামারির রূপ নিল হেপাটাইটিস A! আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৩১ হাজার

সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

Truth of Bengal: কেরলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হেপাটাইটিস এ সংক্রমণ। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত মহামারির আকার ধারণ করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেরলে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৩৬ জন। এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৮২ জন। সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরলের স্বাস্থ্যবিধির বিপর্যয় এবং পরিচ্ছন্নতার অভাবই এই মহামারির মূল কারণ। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল এবং পানীয় জল মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এই দূষিত জলের মাধ্যমেই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের তালিকায় যেমন শিশুরা রয়েছে, তেমনই বাদ যাচ্ছে না তরুণ প্রজন্ম বা বৃদ্ধরা। মূলত হেপাটাইটিস এ একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা সরাসরি মানুষের লিভার বা যকৃৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হেপাটাইটিস এ ভাইরাস (HAV) শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শরীরে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ মনে হলেও এটি অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ক্লান্তি, গাঁটে ব্যাথা, হাড়ের যন্ত্রণা এবং পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া খিদে কমে যাওয়া, বারবার জ্বর আসা, ডায়েরিয়া এবং ত্বকে চুলকানি বা র‍্যাশের মতো সমস্যাও প্রকট হয়ে ওঠে। যদিও সাধারণ চিকিৎসায় এই রোগ সেরে যায়, কিন্তু এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংক্রমণের উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হেপাটাইটিস এ ভাইরাস প্রধানত সংক্রমিত ব্যক্তির মল এবং রক্তে অবস্থান করে। দূষিত জল পান করা বা সেই জল রান্নার কাজে ব্যবহার করা এই রোগ ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম। এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বা তার ব্যবহৃত খাবার ও বাসনপত্র ভাগ করে নিলেও এই ভাইরাস অন্য সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কেরলবাসীকে জল ফুটিয়ে পান করার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

Related Articles