দেশ

‘কুকুর কামড়াবে কি না, তা বোঝা মানুষের সাধ্যের বাইরে!’ পথকুকুর নিয়ে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এদিন পথকুকুর সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।

Truth of Bengal: শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এল পথকুকুরদের আচরণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কামড়ানোর মেজাজে থাকা কোনো কুকুরের মনের কথা পড়া বা তাদের আচরণ আগে থেকে বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এদিন পথকুকুর সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।

শুনানি চলাকালীন আদালত আবেদনকারীদের কাছে প্রশ্ন তোলে যে কেন স্কুল, হাসপাতাল এবং আদালত চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে দেওয়া হবে না। বিচারপতি বিক্রম নাথ মন্তব্য করেন যে, কুকুরের আচরণের পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি কেবল কুকুর কামড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাস্তার কুকুরের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সমান উদ্বেগের। কার মেজাজ কখন কেমন থাকবে এবং সকালে কোনো কুকুরটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে, তা কারোর পক্ষেই বোঝা সম্ভব নয় বলে বেঞ্চ অভিমত প্রকাশ করে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বা রাস্তা অবশ্যই পথকুকুরমুক্ত রাখা প্রয়োজন। আদালত মনে করে, কুকুররা যে সবসময় কামড়াবেই এমন নয়, তবে রাস্তায় তাদের উপস্থিতির ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থেকে যায়। জননিরাপত্তার খাতিরেই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার অবকাশ নেই বলে মনে করেন বিচারপতিরা।

মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে সওয়াল করেন যে, পথকুকুরদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে তুলে এনে বন্ধ্যাকরণ করা যেতে পারে এবং পরবর্তীতে তাদের পুনরায় আগের জায়গাতেই ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। সিব্বলের এই যুক্তির জবাবে আদালত কিছুটা রসিকতা করেই জানায় যে, পথকুকুরদের কামড়ানো থেকে বিরত করার জন্য একমাত্র তাদের কাউন্সেলিং করার ব্যবস্থাই বাকি রয়েছে। অর্থাৎ, একবার বন্ধ্যাকরণ করে এলাকায় ছেড়ে দেওয়ার পর তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো উপায় নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পুরো শুনানিতে বিচারপতিরা বারবার এই বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়ে দেখেন যে, পথকুকুরদের কারণে সৃষ্ট ভীতি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে ব্যাহত করছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাস্তা থেকে পথকুকুর অপসারণের বিষয়টি নতুন করে প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles