কলকাতা

দু’বছর পরও মেলেনি বিচার, ‘অভয়া দিবসে’ ফের সরব চিকিৎসক মহল

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা।

Truth Of Bengal: ঠিক দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট ভোরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা। এবার ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে রাজ্যের সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নির্যাতিতাকে স্মরণ করে নীরবতা পালন করা হল।

শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, রবিবার সকাল ১১টায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রতিষ্ঠানে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। তার আগে প্রদীপ জ্বালিয়ে আর জি করের নির্যাতিতাকে শ্রদ্ধা জানাবেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই নির্দেশ মেনেই আর জি কর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্মরণ কর্মসূচি পালিত হয়।

ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও এখনও প্রশ্ন রয়েছে সমাজের একাংশের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন করে যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত তথ্য সামনে আসুক এবং যাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হোক।

রবিবার আর জি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরব ছিলেন। ‘রাত দখল’ কর্মসূচিকেও সমর্থন করেছিলেন তিনি। সেই সময় হাসপাতাল প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তুলেছিলেন শান্তনু। তাঁর স্ত্রীকেও জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল।

নির্যাতিতাকে স্মরণ করার পর ফের তদন্ত প্রসঙ্গে মুখ খোলেন শান্তনু সেন। আর জি কর মামলায় নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর দাবি, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যাঁরা প্রমাণ নষ্ট বা লোপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

চিকিৎসক মহলের একাংশেরও দাবি, আর জি করের মতো ঘটনা যাতে আর কোনও সরকারি হাসপাতালে না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম প্রধান দাবি।

এদিকে এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে আর জি করের নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে তিনি বিধায়ক। রবিবার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনেও নির্যাতিতাকে স্মরণ করে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নির্যাতিতার নামে তৈরি ট্রাস্টের উদ্যোগে ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। একই মঞ্চ থেকে ওই ট্রাস্ট ভবিষ্যতে কী ধরনের সামাজিক বা জনকল্যাণমূলক কাজ করবে, তারও ইঙ্গিত মিলতে পারে।

Related Articles