দেশ

যোগীরাজ্যে ফের নেকড়ের তাণ্ডব, গুলিতে খতম ‘মানুষখেকো’ নেকড়ে

বন দফতরের আধিকারিক রাম সিং যাদব জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকাই হামলা চালায় নেকড়েটি।

Truth Of Bengal: ভোররাতে মায়ের পাশ থেকে শিশুকন্যাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল নেকড়ে। সন্ধ্যায় সেই নেকড়েরই মৃত্যু হল বন দফতরের শুটারের গুলিতে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ শিশুটির কোনও সন্ধান মেলেনি। নদীর ধারে এবং সংলগ্ন আখের খেতে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুকন্যার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায়।

বন দফতরের আধিকারিক রাম সিং যাদব জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকাই হামলা চালায় নেকড়েটি। ঘরের ভিতর মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা শিশুকন্যাকে মুখে করে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। দপ্তরের তরফে ড্রোন উড়িয়ে এবং অভিজ্ঞ শুটারদের নামিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। তবে ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়।

শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলের দিকে কুয়াশা কিছুটা কাটলে গোধিয়া গ্রামের কাছে নদীর তীরে নেকড়েটিকে দেখতে পান বনকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে বন দপ্তরের শুটার তাকে গুলি করে হত্যা করেন। তবে নেকড়েটিকে মেরে ফেলা গেলেও নিখোঁজ শিশুটির খোঁজ এখনও মেলেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন দফতর।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোধিয়া গ্রামে সম্প্রতি নেকড়ের উপস্থিতির খবর ছিল না। তবে এখান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মল্লহনপূর্বা গ্রামে কয়েকদিন আগেই একটি নেকড়ে চার মাসের এক শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আখের খেত থেকে ওই শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। এছাড়াও ২৯ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এলাকায় আরও তিনটি নেকড়ে-হানার ঘটনা ঘটেছিল। সেগুলির পিছনেও এই নেকড়েটির হাত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে বন দফতর।

উল্লেখ্য, এর আগেও নেকড়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল বাহরাইচ জেলার জঙ্গলঘেরা একাধিক গ্রাম। সেই সময় নেকড়ের হামলায় চার শিশু-সহ মোট ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ২০ জনেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, গ্রামবাসীরা বাড়ির বাইরে বেরোতে পর্যন্ত ভয় পেতেন। শেষ পর্যন্ত বন দপ্তরের গুলিতে মৃত্যু হয় কুখ্যাত ‘মানুষখেকো’ পুরুষ নেকড়েটির।

Related Articles