দেশ

বিচ্ছেদ মানেই হার নয়, নতুন শুরু! মিরাটে মিষ্টি বিলিয়ে মেয়ের ডিভোর্স উদযাপন করলেন বাবা

নিজের সংসার বাঁচাতে প্রণিতা দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন, এমনকি ২০২১ সালেও একবার বিচ্ছেদের উপক্রম হয়েছিল।

Truth Of Bengal: সমাজ ও পরিবারের চিরাচরিত প্রথা ভেঙে এক অনন্য নজির গড়লেন উত্তরপ্রদেশের মিরাটের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। সাধারণত ভারতীয় সমাজে বিবাহবিচ্ছেদকে একটি সামাজিক কলঙ্ক বা দুঃখের বিষয় হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু ডক্টর জ্ঞানেন্দ্র শর্মা তাঁর একমাত্র মেয়ে প্রণিতার বিবাহবিচ্ছেদকে উদযাপন করলেন ঢাকঢোল বাজিয়ে এবং মিষ্টি মুখ করিয়ে। মেয়ের কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এই বাবা প্রমাণ করে দিলেন যে, মেয়ের সম্মান ও খুশি যে কোনো সামাজিক জড়তার চেয়ে অনেক বেশি দামী।

২০১৮ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মেজরের সঙ্গে প্রণিতার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কিছু সময় পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ। নিজের সংসার বাঁচাতে প্রণিতা দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন, এমনকি ২০২১ সালেও একবার বিচ্ছেদের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে তিনি আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে প্রণিতার বাবা সবসময় তাঁর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে এক পথ দুর্ঘটনায় নিজের ছেলেকে হারানোর পর, মেয়ের সুরক্ষা ডক্টর শর্মার কাছে প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

গত রবিবার মিরাট ফ্যামিলি কোর্ট থেকে বিবাহবিচ্ছেদের রায় আসার পরপরই আদালত চত্বরে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যরা কালো রঙের টি-শার্ট পরে এসেছিলেন, যেখানে প্রণিতার ছবির সাথে লেখা ছিল— “আই লাভ মাই ডটার”। ঢাকের আওয়াজে মেতে ওঠেন আত্মীয়স্বজনরা, বিতরণ করা হয় লাড্ডু। মেয়ের জন্মের সময় যেভাবে আনন্দ করেছিলেন, বিচ্ছেদের দিনেও ঠিক একইভাবে আনন্দ করে ডক্টর শর্মা বার্তা দিলেন যে, জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই মেয়ের গুরুত্ব সমান। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিটি মেয়ের যদি এমন সহায়ক পরিবার থাকত, তবে কোনো লড়াই-ই কঠিন মনে হতো না।

Related Articles