“তৃণমূলের গুন্ডাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করব!”, ময়ূরেশ্বরে শাহী হুঁশিয়ারি
“বোমের জবাব ব্যালটে দিন!” ২৩ এপ্রিলের আগে বীরভূমবাসীকে বড় টাস্ক দিলেন অমিত শাহ
Truth of Bengal: ময়ূরেশ্বরের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশ একাধিক ইস্যুতে সুর চড়িয়ে শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিগ্রস্তদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কোনও গরিব মানুষ ঘর বানাতে চাইলে মমতার গুন্ডাদের পয়সা দিতে হয়। আপনারা মমতাকে টাটা-বাই করে দিন। কাটমানি আর সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার কাজ আমরা করব।’’ বীরভূমের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘ময়ূরেশ্বরে তৃণমূল অনেক অত্যাচার করেছে। ২৩ এপ্রিল নির্ভয়ে ভোট দিন, ৫ মে-র পর সব অপরাধীকে খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে।’’
রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষা দিতে পারেন না। উল্টে জিজ্ঞাসা করেন রাতে কেন বাইরে বেরিয়েছেন! আমরা এমন বাংলা বানাব যেখানে রাত ১টাতেও মেয়েরা স্কুটিতে নির্ভয়ে ঘুরতে পারবে। আর কোনও আরজি কর বা দুর্গাপুর হবে না।’’ পাশাপাশি, বীরভূমের ঐতিহ্য এবং শান্তিনিকেতনের প্রসঙ্গ টেনে শাহ দাবি করেন, তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা করতে ব্যর্থ, যেখানে মোদী সরকার শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এবং বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদা এনে দিয়েছে।
অনুপ্রবেশ এবং দুর্নীতি প্রসঙ্গেও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিলেন শাহ। তিনি সাফ জানান, তৃণমূল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে পারবে না, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। নিয়োগ দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধুমাত্র মোদীর নেতৃত্বেই বিজেপি বাংলাকে এই ‘দুর্নীতির পাহাড়’ থেকে মুক্তি দিতে পারে। ‘বোমের জবাব ব্যালটে’ দেওয়ার ডাক দিয়ে তিনি বীরভূমবাসীকে পদ্ম চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।






