
The Truth of Bengal: মহারাষ্ট্রের একটি বাঘ সঙ্গী আর নিরাপদ আস্তানার খোঁজে পাড়ি দিয়ে ফেলল ২০০০ কিলোমিটার! বন দপ্তর সুত্রে জানাগিয়েছে, তাডোবার ওই বাঘ চার রাজ্যের জঙ্গল পেরিয়ে সম্প্রতি হাজির হয়েছে ওড়িশায়। এমনিতে বাঘের গলায় রেডিয়ো কলার পরানো থাকলে তার গতিবিধি ট্র্যাক করা সুবিধা হয়। তবে এই বাঘটির গলায় এমন কোনও ডিভাইস ছিল না যার মাধ্যমে তাকে ট্র্যাক করা সম্ভব। গায়ের ইউনিক স্ট্রাইপ বা ডোরাকাটা দেখেই বনকর্মীরা বুঝেছেন, ওডিশার মহেন্দ্রগিরি রেঞ্জে দেখা পাওয়া বাঘটি আসলে মহারাষ্ট্রের তাডোবা জঙ্গল থেকেই এসেছে! এর আগে ২০১৯ সালে একটি বাঘ সঙ্গীর খোঁজে পাড়ি দিয়েছিল ৩০০০ কিলোমিটারেরও বেশি।
তার পর এই প্রথম এতটা পথ পেরনোর রেকর্ড করল কোনও বাঘ। নেট দুনিয়ার অনেকে মজা করে এই বাঘের নাম রেখেছেন ‘জিপসি টাইগার’! বন দপ্তর জানিয়েছে, ওড়িশার জঙ্গলে পড়শি রাজ্য ছত্তিসগড় থেকে বাঘ ঢোকার খবর হামেশাই শোনা যায়। কিন্তু সুদূর মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের ব্রহ্মপুরী এলাকা থেকে এই প্রথম কোনও বাঘ ওডিশায় ঢুকল, ও সেটাও জল-জঙ্গল, নদী, খনি, চাষজমি, রাস্তা এবং মানুষের বসতি এলাকা পার করে! অথচ বাঘটি কোথাও মানুষকে আক্রমণ করেছে, এমন খবর সামনে আসেনি। সর্বশেষ বাঘশুমারি বলছে, ওড়িশার জঙ্গলে মেরেকেটে ২০টি বাঘ থাকে। ওড়িশার প্রধান মুখ্য বনপাল সুশান্ত নন্দার কথায়, ‘মহেন্দ্রগিরি রেঞ্জে গত ১০ সেপ্টেম্বর একটা গবাদি পশুর শিকার হয়। ওখানে এমনিতে বাঘের দেখা মেলে না বলে তারা ট্র্যাপ ক্যামেরা বসায়।
আর সেই ক্যামেরায় ধরাপরে সেই বাঘটির ছবি!’ তবে প্রশ্ন উঠছে কী করে জানা গেল বাঘটি মহারাষ্ট্রের? ওডিশার পার্লেখামুন্ডি ফরেস্ট ডিভিশনের বনকর্তা এস আনন্দ বাঘটির ছবি পাঠিয়েছিলেন দেরাদুনে, ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ায়। সেখানে বাঘের ইউনিক স্ট্রাইপের হিসাব রাখা ন্যাশনাল টাইগার ডেটাবেস ঘেঁটেই জানা যায়, এই বাঘটি ২০২১ সালে তাডোবা ল্যান্ডস্কেপের ব্রহ্মপুরীতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল! খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাঘটি গত ৬ মাস ধরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার মধ্যে যাতায়াত করছে। অগস্টেই সেটি পৌঁছে গিয়েছিল শ্রীকাকুলাম। তার পর সেপ্টেম্বরে তার ছবি ওঠে ওডিশার মহেন্দ্রগিরি ফরেস্ট রেঞ্জে। মনে করা হচ্ছে, মহারাষ্ট্র থেকে বেরনোর পর বাঘটি ছত্তিসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানা পার করে ওডিশায় ঢুকেছে।






