Truth Of Bengal: ফের কৃষক আন্দোলনে উত্তপ্ত মহারাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নাগপুর-হায়দ্রাবাদ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন ‘মহা-এলগার মোর্চা’ সংগঠনের সদস্যরা। আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে এনসিপি (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী), কিষাণ সভা এবং রাজু শেঠির দল। কৃষকদের এই বিক্ষোভের জেরে গুরুত্বপূর্ণ ওই জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। কৃষকদের মূল দাবি— কৃষিঋণ মকুব, অকাল বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক ৬,০০০ টাকার ভাতা। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রহার জনশক্তি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ওমপ্রকাশ বাবারাও কাদুরে। তাঁর বক্তব্য, এই দাবিগুলিতে সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অকাল বৃষ্টিপাত ও বন্যার জেরে মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলায় বিপুল ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে লাতুর ও পারভানি জেলায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। লাতুরে গত সপ্তাহে দুই দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে ও বন্যায় শতাধিক একর জমির ফসল নষ্ট হয়। পারভানিতেও কৃষকেরা ঋণ মকুব ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে— অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা জেলাশাসকের গাড়িতে পাথর ছোড়েন।
ওই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ কৃষকদের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের পাশে আছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩২,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই কৃষকদের সব দাবির সমাধান করা হবে।তবে কৃষক সংগঠনগুলির দাবি, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি কার্যকর না হওয়ায় তাদের আর আস্থা নেই। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।বর্তমানে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবুও বৃহস্পতিবার দিনভর নাগপুর-হায়দরাবাদ জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।






