দেশ

মায়ের অস্ত্রোপচারের জন্য ৩ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন উমর খালিদ

পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে এই কঠিন সময়ে মায়ের পাশে থাকতে চান উমর

Truth of Bengal: দিল্লি হাইকোর্ট জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদকে তিন দিনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল। মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় পরিবারের পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে ১৫ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন চেয়েছিলেন তিনি। তবে আদালত শর্তসাপেক্ষে ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত তাঁকে জামিনে মুক্ত থাকার অনুমতি দিয়েছে। ৪ জুন ফের তাঁকে জেলে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে হবে। উমরের দাবি, তাঁর ৬২ বছর বয়সি মা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর পিঠে তৈরি হওয়া সিস্টের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন এবং আগামী ২ জুন অস্ত্রোপচারের দিন ধার্য হয়েছে। উমরের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তাঁর বাবা ৭১ বছরের বৃদ্ধ এবং অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনা একার পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে এই কঠিন সময়ে মায়ের পাশে থাকতে চান উমর।

এ ছাড়াও, সম্প্রতি তাঁর কাকা খুরশিদ আলমের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃত্যু-পরবর্তী কিছু পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও নিম্ন আদালত গত ১৯ মে উমরের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কাকা এমন নিকট আত্মীয় নন যার শেষকৃত্যে উমরের উপস্থিতি জরুরি। পাশাপাশি, মায়ের দেখাশোনার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পরেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উমর। সেখানে তিনি জানান, অতীতেও ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বিভিন্ন পারিবারিক কারণে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল এবং প্রতিবারই তিনি সমস্ত শর্ত মেনে নির্দিষ্ট সময়ে জেলে ফিরে গিয়েছেন। হাইকোর্ট এ দিন জামিন মঞ্জুর করলেও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। আদালত জানিয়েছে, জামিনের সময়সীমায় উমর দিল্লি-এনসিআর ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না। শুধুমাত্র বাড়ি এবং হাসপাতালেই যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি, এই তিন দিনে তিনি মাত্র একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনায় অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত উমর খালিদ। সেই ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তারপর থেকেই তিনি জেলে রয়েছেন। একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী জামিন পাননি তিনি।

Related Articles