কলকাতা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বেআইনি? সুপ্রিম কোর্টে মামলা মমতা তৃণমূলের

আগামী সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হতে পারে

Truth of Bengal: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই তৃণমূল নেত্রীর দায়ের করা মামলায় নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীকেও পক্ষ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হতে পারে। জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ এবং তাঁর একাধিক সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন দোলা সেনের এই পদক্ষেপে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। তাঁর নিয়োগের বৈধতা থেকে শুরু করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা—একাধিক বিষয় নিয়ে সরব বিরোধীরা। সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে এড়িয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। গত ১০ মাসে ১৪ বার লিখিতভাবে ওই দুই কমিশনার সিদ্ধান্তগুলির বিরোধিতা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরেই জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তগুলি খতিয়ে দেখা এবং বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। পাশাপাশি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র একাধিক নেতাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এবার পৃথক মামলা করে সেই আইনি লড়াইয়ে যোগ দিলেন দোলা সেন। অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এসআইআর নিয়ে আপত্তিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াতে চাইছেন বিরোধী নেতারা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন সামনে আসার পর থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছেন বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এই ইস্যুতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। এবার দোলা সেনের পৃথক মামলা নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

Related Articles