দেশ

CBSE-র বড় সিদ্ধান্ত! এবার ডিজিটাল মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে দ্বাদশ শ্রেণির খাতা

নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে স্কুলগুলিকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।

Bangla Jago Desk: কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE) মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুততর করার লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল। বোর্ড ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নে চালু হবে অন-স্ক্রিন মার্কিং (On-Screen Marking বা OSM)। অর্থাৎ, দ্বাদশ শ্রেণির খাতা আর কাগজে নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

CBSE-র তরফে সমস্ত অনুমোদিত স্কুলের প্রধান ও অধ্যক্ষদের কাছে পাঠানো একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে দশম শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়ন আগের মতোই শারীরিক (ফিজিক্যাল) পদ্ধতিতে চলবে। শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রেই ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।

বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পরীক্ষার শুরু থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দশম শ্রেণির মূল্যায়ন ২০২৬ সালেও আগের মতোই ফিজিক্যাল মোডে হবে।

CBSE জানিয়েছে, এই ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতির ফলে মোট নম্বর গণনায় ভুল থাকবে না, অনেক প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং হাতে করা কাজের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে মূল্যায়নের গতি বাড়বে এবং নির্ভুলতাও নিশ্চিত হবে।

এছাড়া, OSM চালু হলে শিক্ষকরা নিজেদের স্কুল থেকেই মূল্যায়নের কাজ করতে পারবেন। এতে করে নিয়মিত পাঠদানে বিঘ্ন ঘটবে না। একই সঙ্গে খাতা পরিবহণের সময় ও খরচ বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

CBSE আরও জানিয়েছে, অন-স্ক্রিন মার্কিং চালু হওয়ার পর ফলপ্রকাশের পরে আলাদা করে নম্বর যাচাই (post-result verification) প্রয়োজন হবে না। ফলে অতিরিক্ত জনবলের চাহিদাও কমবে। এই ব্যবস্থায় দেশ-বিদেশের সমস্ত CBSE অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষকরা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে স্কুলগুলিকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। এর মধ্যে রয়েছে— পাবলিক স্ট্যাটিক IP সহ কম্পিউটার ল্যাব, Windows 8 বা তার ঊর্ধ্বতন ভার্সন চালিত কম্পিউটার বা ল্যাপটপ (ন্যূনতম ৪ জিবি RAM), আপডেটেড ইন্টারনেট ব্রাউজার, Adobe Reader, কমপক্ষে ২ Mbps গতির স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।

CBSE জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত করে তুলতে স্কুল ও শিক্ষকদের সবরকম সহায়তা করা হবে। OASIS আইডি থাকা সমস্ত শিক্ষককে সিস্টেমে লগইন করে আগাম অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাধিক ড্রাই রান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, নির্দেশনামূলক ভিডিও এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানের জন্য একটি কল সেন্টার চালু করা হবে।

বোর্ড আরও জানিয়েছে, বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে।

Related Articles