হরিয়ানায় আমলাতান্ত্রিক ‘ষড়যন্ত্র’? আত্মহত্যার আগে এডিজিপির ৯ পাতার বিস্ফোরক চিঠি
৭ অক্টোবর চণ্ডীগড়ের নিজের বাড়ির বেসমেন্টে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে আত্মহত্যা করেন পুরন কুমার।
Truth Of Bengal: হরিয়ানার শীর্ষ পুলিশকর্তা এডিজিপি ওয়াই পুরন কুমারের আত্মহত্যা ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। মৃত আধিকারিকের সুইসাইড নোটে ১২ জন উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন এক প্রাক্তন ডিজিপি, অন্তত ৭-৮ জন আইপিএস এবং ২ জন আইএএস অফিসার। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি, অভিযোগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নবাব সিং সাইনিকে চিঠি লিখলেন মৃতের স্ত্রী ও হরিয়ানার সিনিয়র আইএএস অফিসার অমনিত পি কুমার। অমনিত মুখ্যমন্ত্রী নবাব সিং সাইনিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, ‘ হরিয়ানা পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তারাই এই মামলায় অভিযুক্ত। তাই চণ্ডীগড় পুলিশকে তাঁরা প্রভাবিত করছেন। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।‘ তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ‘ এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে অপমান করার চেষ্টা করতে পারেন, এমনকি কোনও না কোনওভাবে মামলায় আমাকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হতে পারে।‘
৭ অক্টোবর চণ্ডীগড়ের নিজের বাড়ির বেসমেন্টে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে আত্মহত্যা করেন পুরন কুমার। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন পরিচারক, তবে শব্দনিরোধক ঘরে গুলির আওয়াজ তিনি শোনেননি। ঘটনার আগের দিন, ৬ অক্টোবর, সরকারি কাজে জাপানে থাকা স্ত্রী অমনিতকে পুরন কুমার ন’পাতার একটি সুইসাইড নোট ও ইচ্ছাপত্রের খসড়া মেসেজ করে পাঠান। সেই নোটে তিনি জাতপাতজনিত বৈষম্য, প্রশাসনিক পক্ষপাত, এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তোলেন সহকর্মীদের বিরুদ্ধে।
নোটে তিনি লিখে গিয়েছেন, কীভাবে বছর বছর তাঁকে পদোন্নতি, আর্থিক ভাতা এবং সরকারি আবাসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর সরকারি গাড়িও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।অমনিত জাপান থেকে স্বামীর পাঠানো মেসেজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ১৫ বার ফোন করেন পুরনকে, কিন্তু কোনও উত্তর পাননি। এরপর ছোট মেয়েকে ফোন করে বিষয়টি জানান। মেয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেখে, সোফায় রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে রয়েছেন বাবা।ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোট সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফিও করা হয়েছে।তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়নি।অমনিত কুমারের অভিযোগ, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী হরিয়ানার ডিজিপি শত্রজিৎ সিং কপূর এবং রোহতকের পুলিশ সুপার নরেন্দ্র বিজারনিয়া। তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন।এই ঘটনার পর হরিয়ানার আমলাতন্ত্র ও পুলিশবিভাগে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা বর্তমানে সুইসাইড নোটে উল্লিখিত ১২ জন আধিকারিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।






