প্রেমের সম্পর্কের জেরে অমানবিক নির্যাতন! খাস কলকাতায় যুবক-বাবাকে ঘোরানো হল বিবস্ত্র করে
তিনজনকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর পরেই তুলকালাম বেহালা! পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রেমিকার আত্মীয়রা
Truth of Bengal: প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অমানবিক নির্যাতনের সাক্ষী থাকল বেহালার সরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্ক চত্বর। এক যুবক ও এক যুবতীকে একসঙ্গে দেখতে পাওয়ার পর যুবতীর পরিবারের বিরুদ্ধে ওই যুবক এবং তাঁর এক বন্ধুকে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে যুবকের বাবাকেও বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয় এবং অভিযোগ, এরপর ওই যুবক, তাঁর বন্ধু এবং যুবকের বাবাকে পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে জনসমক্ষে এলাকায় ঘোরানো হয়! এই রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং ইতিমধ্যেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যুবতীর বাবা, মা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার এক যুবতী ও যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁদের দু’জনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যুবতীর বাবা, মা ও মামা। এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ওই যুবক ও তাঁর এক বন্ধুকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে শুরু হয় মারধর। শুধু তাই নয়, প্রতিহিংসার আগুন মেটাতে যুবকের বাবাকেও ফোন করে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনজনকেই জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে অমানবিক কায়দায় এলাকায় ঘোরানো হয়।
দিনের আলোয় এমন পৈশাচিক ও অবমাননাকর দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখ কপালে ওঠে এবং তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদেই যুবকের পরিবার ও বন্ধু গোটা ঘটনার বীভৎসতার কথা খুলে বলেন। এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে জনতা। শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে যুবতীর বাড়ির সামনে চড়াও হন এবং ব্যাপক ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ।
তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত যুবতীর বাবা ও পরিবারের অন্যান্য প্রধান অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। যদিও স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে যুবতীর মামাকে ধরে ফেলেন এবং বেধড়ক মারধর করার পর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদেরও খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে ঘটনাস্থলে স্থায়ী পুলিশ পিকেটিং বসানো হয়েছে।




