বিজেপির মঞ্চে মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তরা! নিজেকেই শেষ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি কৌস্তভের
মণীশ শুক্লার খুনিদের বিজেপিতে স্থান নয়! রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে আগুন দেওয়ার হুমকি কৌস্তভের
Truth of Bengal: টিটাগড়ের জনপ্রিয় বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্তদের বিজেপির মঞ্চে ও প্রথম সারির নেতাদের আশেপাশে দেখতে পাওয়া নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হল তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ওই দুই হাইপ্রোফাইল অভিযুক্ত যদি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে নাম লেখান, তবে রাজ্য বিজেপি দফতরের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যার বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সোমবার আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলীয় সহকর্মীদের প্রতি এই স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে টিটাগড় বিজেপি কার্যালয়ের ঠিক সামনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল উঠতি নেতা মণীশ শুক্লাকে। তৎকালীন সময়ে রাজ্য রাজনীতিকে তোলপাড় করে দেওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, পেশাদার সুপারি কিলার নিয়োগ করে মণীশকে খুন করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি নাম জড়িয়ে পড়েছিল বারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর। কৌস্তভ বাগচীর অভিযোগ, সেই সময়ে রাজ্যে অন্য সরকার ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এবং তারা শাসক শিবিরের প্রভাবশালী হওয়ায় উত্তম বা প্রশান্তর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি শাস্তি হয়নি।
তবে বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয়েছে। ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভের মূল অভিযোগ, এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং সাজা এড়াতে মণীশ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত উত্তম ও প্রশান্ত দ্রুত ‘রং বদল’ করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি গেরুয়া শিবিরের একাধিক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছেন তারা। কৌস্তভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদেরই কিছু নেতার পাশে এখন মণীশ শুক্লার খুনিদের অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। আমি খোদ বিজেপি বিধায়ক হিসেবে স্পষ্ট জানাচ্ছি, উত্তম ও প্রশান্তকে কোনও অবস্থাতেই বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। আর তা সত্ত্বেও যদি ওদের দলে নেওয়া হয়, তবে দরকার পড়লে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দেব!” নিজের রাজনৈতিক একরোখা মনোভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার রাজনৈতিক দৃঢ়তা সকলেরই জানা। টানা সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে রেখেছিলাম এবং জানিয়েছিলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন না হওয়া পর্যন্ত মাথায় চুল রাখব না।”
সাংবাদিক বৈঠকে নির্দিষ্ট করে দলের কোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতার নাম নেননি কৌস্তভ। তবে এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি নিয়ে নাম না করে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রবীণ নেতা অর্জুন সিং। কৌস্তভকে পাল্টা উত্তর দিয়ে অর্জুন সংক্ষিপ্ত অথচ চাঁচাছোলা ভাষায় জানান, “আমি ভালভাবেই জানি কীভাবে রাজনীতিটা করতে হয়।” অন্যদিকে মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত উত্তম ও প্রশান্তকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে আদালতের দরজায় আইনি লড়াই চালানোরও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন কৌস্তভ বাগচী। সব মিলিয়ে ব্যারাকপুর ও উত্তর ২৪ পরগনার বিজেপি রাজনীতিতে এবার চরম গৃহযুদ্ধের দামামা বেজে উঠল।






