অসমে গোষ্ঠী সংঘর্ষে ঝরল রক্ত! নিহত ২, বন্ধ ইন্টারনেট
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজাতি বেল্ট থেকে দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময়েই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
Truth Of Bengal: অসমের করবি আংলং জেলায় সোমবার দুই বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর হঠাৎ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দু’জন। এছাড়া ৪৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৮ জন পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিরাপত্তাবাহিনী লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। অশান্তির কারণে করবি আংলং ও পশ্চিম করবি আংলং জেলায় মঙ্গলবার থেকে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “পশ্চিম করবি আংলংয়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আজকের অশান্তিতে দু’জনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শান্তি ফিরিয়ে আনতে আগামীকাল খেরানি এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।” তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং নিশ্চিত করেছেন যে রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজাতি বেল্ট থেকে দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময়েই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংঘর্ষে আরও একজন যুবক, আথিক টিমুং প্রাণ হারান। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুড়ে যাওয়া একটি ভবন থেকে ২৫ বছর বয়সী সুরেশ দে-এর দেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতর জানায়, জনশান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে ল্যান্ডলাইনভিত্তিক ভয়েস কল এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।
অসমের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হরমিত সিং জানিয়েছেন, “সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। সংঘর্ষে দোকানপাটে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ৪৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।”করবি আংলং ও পশ্চিম করবি আংলং জেলার জেলা শাসকরা আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতির রিপোর্ট দিয়েছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হতে পারে। তাই ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানিয়েছেন কমিশনার ও সেক্রেটারি বিস্বজিৎ পেগু।






