স্ত্রীর কারণে স্বামী কর্মক্ষমতা হারালে মিলবে না ভরণপোষণ, জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
কুশীনগরের এক দম্পতির মামলার প্রেক্ষিতে এই নজিরবিহীন রায় দিয়েছেন বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লা।
Truth Of Bengal: বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রীর ভরণপোষণ বা খোরপোশ সংক্রান্ত এক মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি স্ত্রীর কাজ বা তাঁর পরিবারের আচরণের কারণে স্বামী উপার্জনের ক্ষমতা হারান, তবে ওই স্ত্রী ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন না। কুশীনগরের এক দম্পতির মামলার প্রেক্ষিতে এই নজিরবিহীন রায় দিয়েছেন বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লা।
মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বেদ প্রকাশ সিং নামের এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর ক্লিনিকে ঢুকে স্ত্রীর ভাই ও বাবা অশান্তি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেই গুলি তাঁর মেরুদণ্ডে বিঁধে যায়। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার করলে পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে ওই চিকিৎসক দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে বা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে অক্ষম। এই পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর স্ত্রী আদালতের কাছে ভরণপোষণের দাবি জানান।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে কুশীনগর ফ্যামিলি কোর্ট স্ত্রীর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে জানায়:
- স্বামীর শারীরিক অবস্থা ও অক্ষমতা নিয়ে কোনও বিতর্কের অবকাশ নেই।
- এই অক্ষমতার জন্য সরাসরি দায়ী স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
- আইনের সাধারণ ধারণায় স্বামী স্ত্রীর দেখভাল করবেন- এমনটা থাকলেও, বিশেষ পরিস্থিতিতে বাস্তবের গুরুত্ব বিবেচনা করা জরুরি।
বিচারপতি লক্ষ্মীকান্ত শুক্লা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “যদি স্ত্রী নিজের কাজ বা অবহেলার মাধ্যমে স্বামীকে উপার্জনে অক্ষম করে তোলেন, তবে সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না।” আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, ন্যায়বিচার কেবল আইনের বই দেখে হয় না, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও ন্যায়নিষ্ঠতা বিচার করাও আদালতের কাজ। এক্ষেত্রে স্বামী নিজে কোনও অপরাধ না করে বরং স্ত্রীর পরিবারের হিংসার শিকার হয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, এই রায় আগামী দিনে ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে। আদালত এটি পরিষ্কার করে দিল যে, খোরপোশ পাওয়া আইনি অধিকার হলেও, স্বামী যদি স্ত্রীর কারণে বা স্ত্রীর পরিবারের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান, তবে সেই দায় স্বামীর ওপর চাপানো অন্যায্য।






