কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, এক লক্ষ কর্মীকে নিয়ে বৈঠক অভিষেকের
শনিবার বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া তৃণমূলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অভিযোগ তোলেন তিনি।
Truth Of Bengal: লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত নোটিস বহু জায়গায় যথাযথভাবে টাঙানো হয়নি বলে অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সেই নির্দেশ কার্যকর করছে না।
শনিবার বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া তৃণমূলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। বৈঠকে রাজ্যজুড়ে এক লক্ষেরও বেশি জনপ্রতিনিধি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ–২), সাংসদ, বিধায়ক, পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেন, রাজ্যে কেবল মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে রবিবার রাজ্যজুড়ে ব্লকভিত্তিক র্যালির আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। দলীয় নেতৃত্বের তরফে কর্মসূচি সফল করতে সব স্তরের কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই অভিষেক অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে এখনও পর্যন্ত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আইন মেনেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। তিনি জানান, নিজে-সহ তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ উপস্থিত থাকলেও, তাঁদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিষেকের দাবি, এসআইআর-এর কারণে প্রায় ১.৩৬ কোটি ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বাদ পড়েননি।
এছাড়াও শুনানির সময় বুথ লেভেল এজেন্টদের উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা যায় না, এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহু এলাকায় নোটিস ঠিকমতো টাঙানো হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। একই সঙ্গে রাজ্যে কেবল মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েনের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সি নির্বাচন সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, বিষয়টি যেভাবে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টও উত্থাপিত সমস্যাগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে।






