দেশ

ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণে বড় জয়! খোরপোশ মামলায় স্ত্রীর ‘ব্যভিচার’ প্রমাণে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট গ্রহণ হাইকোর্টের

যা ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের কঠোর নিয়মের বাইরেও হতে পারে।

Truth of Bengal: পরিবার আদালতের আইনি লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। স্ত্রীর খোরপোশ সংক্রান্ত একটি মামলায় ব্যভিচারের প্রমাণ হিসেবে স্বামীর দাখিল করা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি মদন পাল সিংয়ের একক বেঞ্চ জানিয়েছে, পারিবারিক বিবাদ মেটানোর স্বার্থে পরিবার আদালত যে কোনও তথ্য বা প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে, যা ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের কঠোর নিয়মের বাইরেও হতে পারে।

Decisions And Consequences (Part 1): Non-Compliance With Court Order Is A  Serious Matter

এই মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, নিম্ন আদালত অভিযুক্ত স্বামীকে তাঁর স্ত্রীর জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। স্বামী এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে বা ব্যভিচারে লিপ্ত রয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যদি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকেন তবে তিনি খোরপোশ পাওয়ার অধিকারী নন। নিজের দাবির সপক্ষে স্বামী ওই স্ত্রী ও অন্য ব্যক্তির মধ্যে বিনিময় হওয়া কিছু ‘অশ্লীল’ এবং ‘শারীরিক ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিতবাহী’ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের প্রতিলিপি আদালতে জমা দিতে চেয়েছিলেন। তবে ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালত এই চ্যাটগুলি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল। আদালতের যুক্তি ছিল, ইলেকট্রনিক প্রমাণ দাখিলের জন্য ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ৬৫-বি ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র জমা দেওয়া হয়নি। নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্ট জানিয়েছে, ফ্যামিলি কোর্ট অ্যাক্ট বা পরিবার আদালত আইনের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আদালতের কাছে এমন ক্ষমতা রয়েছে যার মাধ্যমে তারা বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক যে কোনও তথ্য গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়মাবলী মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়।

Allahabad High Court Directs Conducting Of UPPSC Mains Exams As Scheduled,  Result Subject To Outcome Of Appeal

হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, নিম্ন আদালত স্বামীর আনা ব্যভিচারের অভিযোগটিকে খতিয়ে না দেখেই খোরপোশের নির্দেশ দিয়েছিল। উচ্চ আদালতের মতে, যখন নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সহ ব্যভিচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তখন আদালতের উচিত ছিল সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি সুনির্দিষ্ট রায় দেওয়া। চ্যাটগুলি গ্রহণ না করা আইনের চোখে সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছে আদালত। পুরনো নির্দেশটি বাতিল করে দিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্ট মামলাটি পুনরায় নিম্ন আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল শুনে এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সহ অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে নতুন করে রায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায় ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং পারিবারিক বিবাদের ক্ষেত্রে এক নতুন আইনি নজির তৈরি করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles